যে কারণে দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল ফিফা

  • ক্রীড়া ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই বড় ধাক্কা খায় যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দল। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন দলটির ম্যানেজার স্যাম জাপাটকা এবং ইউএস সকার ফেডারেশনের নিরাপত্তাবিষয়ক সহসভাপতি ফ্র্যাঙ্ক প্যানেল।

ফিফার ডিসিপ্লিনারি প্রিভিউ বা শাস্তিমূলক তথ্য তালিকায় তাদের নাম প্রকাশের পর বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। তবে সংস্থাটি এখন পর্যন্ত এই বরখাস্তের সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচের পর ফিফার ম্যাচ প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং অননুমোদিত এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে এই দুই কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা ও আচরণ নিয়ে ফিফার ভেতরে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই ম্যাচে মাঠের শৃঙ্খলা ও প্রোটোকল ভাঙার ক্ষেত্রে তাদের পরোক্ষ ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ ওঠে, যা ফিফার নজরদারিতে ছিল। বসনিয়া ম্যাচের পর সেই শৃঙ্খলাভঙ্গের ধারাবাহিকতায় তাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা নেমে আসে।

এদিকে, ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সঙ্গেও এই ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে। বসনিয়া ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পরও বালোগুন মাঠে ফিরে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে অংশ নিয়েছিলেন, যা ফিফার নিয়মবিরুদ্ধ। তবে ইউএস সকার ফেডারেশন স্পষ্ট জানিয়েছে, দুই কর্মকর্তার বরখাস্তের সঙ্গে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা বা তাকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলানোর কোনো সম্পর্ক নেই।

ইউএস সকার ফেডারেশন বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মার্কিন ফেডারেশনের ভাষ্য, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ফিফার এখতিয়ারভুক্ত। অন্যদিকে, ফিফাও এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জনসম্মুখ বিবৃতি দেয়নি।

স্যাম জাপাটকা ২০১৫ সাল থেকে ইউএস সকারের সঙ্গে যুক্ত এবং ২০২০ সাল থেকে জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, ফ্র্যাঙ্ক প্যানেল দলের নিরাপত্তাবিষয়ক দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস ও সিআইএসহ বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করেছেন।

শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর এই দুই কর্মকর্তার অনুপস্থিতি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফিফার সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও নিয়ম প্রয়োগের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেক মার্কিন ফুটবল সমর্থক ও বিশ্লেষক। তবে ফিফার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত বরখাস্তের প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

এসএইচ