ফাইল ছবি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে মনোনয়নবঞ্চিত নেতা মুশফিকুর রহমান সিদ্দিকীর অনুসারীরা গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর ও রেললাইনে আগুন দিয়েছে। এতে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। শনিবার বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত পত্রে তার প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার খবর এলাকায় পৌঁছালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন মনোনয়ন প্রত্যাশী ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান ও তার ভাতিজা দলের সদস্য মুশফিকুর রহমানের শতাধিক অনুসারী বিকেল ৪টার দিকে গফরগাঁও রেলস্টেশনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা স্টেশনমাস্টারের কক্ষে ঢুকে তাকে বের করে দিয়ে বাইরে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর রেললাইনের ওপর টায়ার ও কাঠ ফেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মনোনয়নবঞ্চিত নেতার সমর্থকরা প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করে এবং পরে রেললাইনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ কাজ করছে।
মনোনয়নপ্রাপ্ত আক্তারুজ্জামান বাচ্চু জানান, গফরগাঁওয়ের মানুষ দীর্ঘ দেড় দশক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। তার লক্ষ্য শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেন না এবং সবাইকে নিয়ে বৈষম্যহীন গফরগাঁও গড়ে তুলবেন।
মনোনয়নবঞ্চিত মুশফিকুর রহমান বলেন, যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি যোগ্য নন, তাই বিএনপির সব গ্রুপ এক হয়ে মাঠে নেমেছে। অপর মনোনয়নবঞ্চিত নেতা সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি ঢাকায় থাকলেও বিক্ষোভে তার লোকজন থাকতে পারে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর স্থানীয় ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম বলেন, রেললাইনে আগুনের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ এবং উপজেলা শহরে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
ঘটনাস্থলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন।
এসএইচ







































