ছবি: প্রতিনিধি
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, বাংলাদেশে যত এজেন্সি ও প্রতিষ্ঠান আছে, যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে-তারা সবাই যার যত সক্ষমতা আছে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করুক। গত দেড় বছরে যদি বিন্দুমাত্র দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা আমি মাথা পেতে মেনে নেব।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় শহরের লিচুতলা এলাকায় জেলা এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পেইড প্রপাগান্ডা সেল থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু অ্যাক্টিভিস্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিংবা কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপিকে হেয়প্রতিপন্ন করা, আমাকে প্রার্থী হিসেবে বিতর্কিত করা কিংবা জুলাই আন্দোলনে যারা নেতৃত্বে ছিলেন, তাঁদের প্রশ্নবিদ্ধ করে আওয়ামী লীগকে আবার প্রাসঙ্গিক করে তোলা। কেউ কেউ গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, আবার কেউ টাকার বিনিময়ে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বে।
হলফনামায় তথ্যের গড়মিলের বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, হলফনামার মূল বিষয়গুলো সঠিক থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন। আয়কর রিটার্নে দেখানো আয়ের পরিমাণে একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছিল। টাইপিং মিস্টেকের কারণে ৯ লাখ টাকার জায়গায় ২৮ লাখ টাকা উল্লেখ হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা সংশোধন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর ছবি ব্যবহার করে ফটোকার্ড বানিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে—তিনি নাকি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির হয়ে ঈদ শুভেচ্ছা জানাতেন। বাস্তবে তাঁর জীবনে কখনোই ছাত্রলীগের কোনো কেন্দ্রীয় কমিটি তো দূরের কথা, কোথাও কোনো পদ-পদবি ছিল না। আগে সরকার বা ছাত্রলীগের সমালোচনা করলে তাঁকে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ করা হতো। এমনকি তাঁর বাড়িতে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।
সারজিস আলম বলেন, অভ্যুত্থানের সময় তাঁরা সম্মুখসারীতে ছিলেন। সে সময় ডিজিএফআই ও ডিবি দ্বারা নির্যাতনের শিকার হলেও তাঁরা পথচ্যুত হননি। তাঁর মতে, অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের পেইড এজেন্টরা পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে।
বিএনপির দিকে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এনসিপির রাজনীতিতে যারা যুক্ত হচ্ছেন, তাঁদের বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকেও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এখনই যদি ক্ষমতা ও পেশিশক্তির দাপট এবং কালোটাকার প্রভাব দেখানো হয়, তাহলে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখেন না। এ বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে সংবাদমাধ্যম যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ থাকে। সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত থাকতে পারে, এতে সমস্যা নেই। তবে সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি। তা না হলে অপসাংবাদিকতার মুখোমুখি হবে দেশের সাধারণ মানুষ। তাঁর বিশ্বাস, গণমাধ্যমের সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, যেমনটি অভ্যুত্থানের সময় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে দেশের বাস্তবতা তুলে ধরা সম্ভব হয়েছিল।
এসএইচ







































