ছবি : প্রতিনিধি
বরিশাল: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মোট ১৮৬টি মামলা। প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
হিসাব অনুযায়ী, গড়ে এসব প্রার্থীদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রায় নয়টি করে মামলা রয়েছে। অধিকাংশ প্রার্থী ও আইনজীবীদের দাবি,এসব মামলার বড় অংশই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। প্রার্থীদের ভাষ্য, বিরোধী রাজনীতির কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হয়েছেন।
বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ২৫ মামলার আসামি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন,আমরা আইনের পথ মেনেই নির্বাচনে এসেছি। অতীতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছি। যারা মামলা-মোকদ্দমার শিকার, তারাও পরিষ্কারভাবে ভোটের অধিকার রাখে।
বরিশাল সদর আসনে বাসদের প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন,বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলে থাকলেই মামলা দেওয়া একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কার নামে কয়টি মামলা আছে, শুধু তা দেখে চরিত্র নির্ধারণ করা কঠিন। দেখতে হবে মামলার ধরন কী এবং সত্যতা কতটা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী,বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ১১টি মামলা। বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের নামে ১৮টি মামলা। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ৪১টি মামলা। বরিশাল-৪ আসনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে সর্বোচ্চ ৮৬টি মামলা। বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ১৮টি মামলা এবং বরিশাল-৬ আসনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের নামে ১২টি মামলা রয়েছে।
এর মধ্যে বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী রাজিব আহসানের বিরুদ্ধে রয়েছে সর্বাধিক ৮২টি মামলা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মামলা রয়েছে বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নামে ২৫টি।
আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন, যারা নির্বাচন করছেন তারা মূলত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এসব মামলার বড় অংশই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। প্রায় ৯৮ শতাংশ মামলা রাজনীতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আদালতের ধাপ পেরোতে গিয়ে অধিকাংশ মামলা টেকসই হয় না।
আরেক আইনজীবী শাহে আলম বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় মামলা ছিল দমন-পীড়নের প্রধান হাতিয়ার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই এসব মামলা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এগুলো রাজনৈতিক, তাই ভবিষ্যতে সরকারিভাবে অনেক মামলা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ২৯ হাজার ৯৪৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৮১০ জন। নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৮ জন। এই অঞ্চলের ৮২৭টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৪১টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বেশিরভাগই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল এবং এগুলো নির্বাচনী পরিবেশে কোনো বড় বাধা সৃষ্টি করবে না।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের সময় যাদের নামে মামলা হয়েছে, তার অধিকাংশই বানানো বা জোরপূর্বক দেওয়া। এগুলো ইতোমধ্যে পর্যালোচনায় এসেছে। নির্বাচনকে ঘিরে এসব মামলা নিয়ে বক্তব্য পাল্টা বক্তব্য হতে পারে, তবে ভোট নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। এমপি প্রার্থীদের কারও বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা নেই, যা আছে তা রাজনৈতিক মামলা।
তিনি জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকবে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
পিএস







































