• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ছেলেকে বাঁচাতে শেষ নিঃশ্বাসেও লড়লেন মা জ্যোৎস্না


রাজবাড়ী প্রতিনিধি মার্চ ২৬, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
ছেলেকে বাঁচাতে শেষ নিঃশ্বাসেও লড়লেন মা জ্যোৎস্না

ছবি: সংগৃহীত

জীবনের শেষ মুহূর্তেও সন্তানের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার-এই চিরন্তন মাতৃত্বের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন জ্যোৎস্না নামে এক নারী। একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাস পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সময় নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন তিনি। ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং মানবিকতার গভীরতম আবেগ এবং আত্মত্যাগের এক হৃদয়বিদারক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীরা যখন জীবন বাঁচাতে মরিয়া, তখন জ্যোৎস্না নিজের ছেলেকে বাসের জানালা দিয়ে বাইরে ঠেলে দেন। পানির স্রোত ও আতঙ্কের মধ্যে এটি ছিল কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্ত, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই সন্তানের জীবনের সম্ভাবনা তৈরি করে দেয়। তবে নিজে আর বের হতে পারেননি তিনি।

এই ঘটনার মধ্যে উঠে এসেছে দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দুর্বলতা। অতিরিক্ত গতি, যানবাহনের ফিটনেসের অভাব এবং সেতু বা সড়কের নিরাপত্তা ঘাটতি প্রায়ই এমন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও আবারও সামনে এসেছে, যেখানে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলে হয়তো প্রাণহানি কিছুটা কমানো সম্ভব হতো।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিপদের মুহূর্তে মায়ের এই ধরনের আচরণ মানবিক প্রবৃত্তিরই অংশ। সন্তানের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করা—এটি কোনো পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নয়, বরং গভীর আবেগ ও স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ। সমাজে এমন ঘটনা মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা জাগিয়ে তোলে, আবার একই সঙ্গে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিগুলোও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জ্যোৎস্নার আত্মত্যাগ অনেকের কাছে এক অনুপ্রেরণা হলেও, এটি একই সঙ্গে এক কঠিন প্রশ্নও ছুড়ে দিয়েছে-কেন বারবার এমন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হয় সাধারণ মানুষকে।

সংক্ষেপে বলা যায়, জ্যোৎস্নার এই আত্মত্যাগ শুধু একজন মায়ের ভালোবাসার গল্প নয়, বরং এটি আমাদের সড়কব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও মানবিক দায়বদ্ধতার একটি নির্মম প্রতিচ্ছবি।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!