• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

এসএসসি-এইচএসসি নিয়ে নতুন যে পরিকল্পনা নিলো সরকার


নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
এসএসসি-এইচএসসি নিয়ে নতুন যে পরিকল্পনা নিলো সরকার

ফাইল ছবি

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ করতে দীর্ঘদিনের আলোচিত ‘একক ভর্তি পরীক্ষা’ চালুর বিষয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সেশনজট নিরসনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময়সূচিও এগিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষাও এগিয়ে আনা হবে, যাতে ফল প্রকাশের পরপরই দ্রুততম সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা যায়। মূলত শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় বাঁচাতে এবং দীর্ঘ ভর্তি প্রক্রিয়ার ভোগান্তি কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে এইচএসসি পাসের পর উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কয়েক মাস ধরে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড়াতে হয়। এতে সময় ও অর্থের বিশাল অপচয় ঘটে। শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি কমাতে ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তত্ত্বাবধানে গুচ্ছ পদ্ধতি চালু হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো তাতে অংশ নেয়নি। ফলে এখনো অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে তিন-চার মাস ধরে একাধিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, যদি এসএসসি ডিসেম্বরে এবং এইচএসসি ফেব্রুয়ারি-মার্চে সম্পন্ন করা যায়, তবে জুন মাসের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে জুলাই থেকেই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত বা একক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যাবে। এতে বর্তমান সময়সূচির তুলনায় প্রায় চার মাস সময় বেঁচে যাবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, একক ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ইউজিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হবে। সরকার চায় একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় সব বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আসতে।

শিক্ষাবিদরা সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এটি বাস্তবায়নে স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করে সবার মধ্যে নীতিগত ঐক্য গড়ে তোলা সবচেয়ে জরুরি। এদিকে শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, প্রশাসনিক চাপ বাড়লেও সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। সব মিলিয়ে ২০২৭ সাল থেকে দেশের শিক্ষাসূচিতে বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এসএইচ 

Link copied!