• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ইতালিতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, নেপথ্যে পরকীয়া ও টাকাসহ চাঞ্চল্যকর তথ্য


জেলা প্রতিনিধি মে ২, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
ইতালিতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, নেপথ্যে পরকীয়া ও টাকাসহ চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইউরোপের দেশ ইতালিতে এক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের মধ্যে ঘটে গেছে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুনের ঘটনায় সামনে এসেছে পরকীয়া, পারিবারিক বিরোধ ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনসহ একাধিক কারণ।

নিহত ও অভিযুক্ত দুই ভাই মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের প্রবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা ইতালির লেইজ শহরে বসবাস করতেন।

পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক দ্বন্দ্ব, গোপন বিয়ে ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। এসব ঘটনার জেরে বড় ভাই ও ছোট ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পারিবারিক বক্তব্য অনুযায়ী, হুমায়ুন ফকিরের ব্যক্তিগত জীবনেই তৈরি হয়েছিল জটিলতা। প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের চাচাতো বোন তায়েবার সঙ্গে দীর্ঘদিন পরকীয়ায় জড়ান।

পরে দেশে এসে গোপনে দ্বিতীয় বিয়েও করেন। এই বিয়ে পরিবার মেনে নেয়নি, যা নিয়ে বাবা-মা ও ভাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে ওঠে।

পরিবার জানায়, দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুমায়ুনের বাবা দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভে ওই ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে হুমায়ুন আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ছোট ভাই নয়নের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

অন্য দিকে, আর্থিক বিষয়ও এই দ্বন্দ্বকে আরও জটিল করে তোলে। হুমায়ুন নিজ খরচে নয়নকে ইতালি নিলেও, পরবর্তীকালে নয়ন বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা তাকে পরিশোধ করেন। এরপরও হুমায়ুন পরিবারের ভরণপোষণ বাবদ ব্যয়ের অর্ধেক, অর্থাৎ ৮ লাখ টাকা নয়নের কাছে দাবি করেন। পরিবার বলছে, নয়ন টাকা দিতে রাজি থাকলেও, এর আগেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেলে ছোট ভাই বাড়ির নিচে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পরিবারের অভিযোগ আরও বলছে, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিডিও কলের মাধ্যমে ঘটনাটি দেশে থাকা স্বজনদের দেখান, যা ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।

এদিকে অভিযুক্তকে ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে নিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিহতের পরিবার এই ঘটনায় দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি, মানসিক চাপ ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রবাসী সমাজে এমন মর্মান্তিক ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এম

Link copied!