• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

পুলিশ কনস্টেবলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার


ঝালকাঠি প্রতিনিধি মে ২, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
পুলিশ কনস্টেবলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এক পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগরি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মনি আক্তার (২৫) উপজেলার বামনকাঠি গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে। তিনি ঝালকাঠি জেলা পুলিশের কনস্টেবল নুর উদ্দিনের স্ত্রী।

নিহতের বাবা ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে জানানো হয় যে বাগরি বাজার ওয়ালটন প্লাজাসংলগ্ন মসজিদ গলির একটি ভাড়া বাসায় এক নারী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে রাজাপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের বাবা খলিলুর রহমান জানান, তাঁর জামাতা নুর উদ্দিন ঝালকাঠি জেলা পুলিশ লাইনসে কর্মরত ছিলেন এবং রাজাপুর সার্কেল অফিসে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি প্রায় পাঁচ-ছয় মাস ধরে কর্মস্থলে অনিয়মিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন। 

তিনি আরও জানান, দাম্পত্যজীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটত বলে তিনি দাবি করেন। মনি আক্তারের একটি পাঁচ বছর বয়সী ছেলেসন্তান রয়েছে।

পরিবারের ভাষ্যমতে, ঘটনার রাতে নুর উদ্দিন নিহতের পরিবারকে ফোন করে বলেন, ‘মনি আর নেই, আপনারা দ্রুত বাসায় আসেন।’ পরে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করে তাঁরা মনি আক্তারকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। কিন্তু ঘরের ফ্যানের সঙ্গে একটি ওড়না ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।

পরবর্তীকালে তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (রাজাপুর সার্কেল) মো. শাহ আলম এবং রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নুর উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে তিনি তাঁর সন্তানকে নিয়ে পলাতক।

রাজাপুর থানার ওসি সুজন বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।’

এম

Link copied!