ছবি : প্রতিনিধি
কুয়াকাটা: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ছেলের হাতে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক বৃদ্ধ বাবা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার ( ১২ মে ) সকাল আনুমানিক ১০ টার দিকে মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত বৃদ্ধের নাম আব্দুস ছোবাহান (৬০)। অভিযুক্ত ছেলে হাসান (৩৫)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস ছোবাহান দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারি ব্যবসা করে সংসার চালিয়ে আসছেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও প্রতিদিন বাজারে ঘুরে কার্টন ও ভাঙারি সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। সেই আয়ে পরিবারের ভরণপোষণের পাশাপাশি ছেলের বিভিন্ন দেনাও পরিশোধ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুস ছোবাহান জানান, প্রতিদিন সকালে তার স্ত্রী পান তৈরি করে দেন। ঘটনার দিন সকালে পান তৈরি না করাকে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছেলে হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার মাথায় দুইটি সেলাই দেওয়া হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুস ছোবাহান বলেন, “আমি সারাজীবন কষ্ট করে সংসার চালাইছি। ছেলের জন্য ঋণ করে বিদেশ পাঠাইছিলাম। এখন সেই ছেলের হাতেই মার খেতে হচ্ছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত হাসান দীর্ঘদিন ধরে নেশাজাতীয় দ্রব্যের সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে গেলেও সেখানে বেশিদিন থাকতে পারেননি। দেশে ফিরে এসে প্রায়ই পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করতেন বলেও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. জুবায়ের হোসেন জানান, আহত ব্যক্তির মাথায় আঘাতের কারণে দুইটি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা পারিবারিক সহিংসতার এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পিএস







































