ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলে শুধু কর্মরতরাই নন, বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার আওতায় আসছেন পেনশনভোগীরাও। জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের পেনশনারদের মাসিক পেনশন দ্বিগুণ করার পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ও টিফিন ভাতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, যারা বর্তমানে মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ করার সুপারিশ করেছে কমিশন। এছাড়া ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ভাতা সংস্কারের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেলেও নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রচলিত মাসিক ২০০ টাকা টিফিন ভাতা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রেও ১ হাজার ৫০০ টাকা বাড়িয়ে মাসিক ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব এসেছে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন গত জানুয়ারিতে এসব সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন জমা দেয়। বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এই সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে তিন ধাপে এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।
প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করার জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে অর্থ বিভাগ। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে ভাতাগুলো তৃতীয় ধাপে অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পেনশন ও চিকিৎসা ভাতায় এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতার প্রস্তাবটিও সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে, যেখানে ৭৫ ঊর্ধ্ব পেনশনারদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতার কথা বলা হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এই প্রস্তাবটি শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।
এসএইচ














-69e1dc4e4a296-69e4310da6b3b-69f377fd532e3-(1)-20260507022753.jpg)
























