ফাইল ছবি
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের নবঘোষিত ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে ছাত্রলীগের ১১ জন পদধারী নেতার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে। খোদ ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সংসদকে দায়ী করছেন।
গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে তানভীর আব্দুল্লাহকে আহ্বায়ক এবং মেহেদী হাসানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ঘোষিত কমিটিতে মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ২০২৩ সালের কমিটির পদধারী ১১ জন সদস্য গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নাম এসেছে ছাত্রলীগের সদস্য মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নোমান, রিজভী আহমেদ, সাদ মোহাম্মদ, নিলয় সাহা প্রয়াস, জান্নাতুল ইসলাম নাবিল, আব্দুল বাসেত শিবলু, আরাফাত হোসাইন রিফাত, জাকারিয়া আরজু ও সাব্বির আহমেদ সৌরভের। এছাড়া সাধারণ সদস্য হিসেবে পদ পেয়েছেন ছাত্রলীগের কমিটির সদস্য মেহেরাব হোসেন মিয়াদ ও প্রান্ত সাহা।
কমিটি ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না। বর্তমানে তাদের অধিকাংশই কলেজ হোস্টেল কিংবা মেসে অবস্থান করছেন না বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে আছেন খোদ ছাত্রদলের পদধারী নেতারাও। শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। যারা কমিটি দিয়েছেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন।
মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের কমিটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সংসদ নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানান জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম। তিনি উল্লেখ করেন, যদি কেউ তথ্য গোপন করে ছাত্রদলের কমিটিতে ঢুকে থাকে, তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগের পদধারীদের স্থান পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের একনিষ্ঠ কর্মীরা এই কমিটিকে ‘অনুপ্রবেশকারী নির্ভর’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত তা বাতিলের দাবি তুলেছেন। অনেকের মতে, যারা এতদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, তাদের ছাত্রদলে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়নের নামান্তর।
এসএইচ







































