• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

‘৫০ বিয়ে হলেও সমস্যা নেই, সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে’


জেলা প্রতিনিধি আগস্ট ২০, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
‘৫০ বিয়ে হলেও সমস্যা নেই, সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে’

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নাছরুম আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, হানি ট্রাপের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ এবং প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল বাশার চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ অস্বীকার নাছরুম আক্তার বলেন, ‘আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে।’

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেওয়া অভিযোগে আবুল বাশার দাবি করেন, তার প্রবাসী ছেলে সাইফুল ইসলাম মাসুমকে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে নাছরুম আক্তার বিয়ে করেন। পরে মাসুমের নামে জমি কেনার কথা বলে নিজের নামেও জমি লিখে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ এপ্রিল সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মাসুমের মৃত্যু হয়। এরপরও নাছরুম তাদের পরিবারের কাছে বিভিন্নভাবে অর্থ দাবি করেন এবং ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যান বলে দাবি আবুল বাশারের। এ ঘটনায় তিনি ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও দেন বলে জানান।

আবুল বাশারের আরও অভিযোগ, বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নাছরুমকে বাবার বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ১৮ আগস্ট তিনি তার ভগ্নিপতি নয়নসহ কয়েকজনকে নিয়ে আবুল বাশারের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান। পরে তিনি জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী দাবি করেন, নাছরুম আক্তার প্রথমে অ্যাডভোকেট নওশেদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি এফিডেভিট দেখিয়ে মাসুমের সঙ্গে বিয়ের দাবি করেন। তবে কাগজটির সত্যতা যাচাই করতে গেলে অ্যাডভোকেট নওশেদ সেটি দেননি বলে লিখিত প্রত্যয়ন দেন।

পরবর্তীতে শাহমাহমুদপুর এলাকার এক কাজির স্বাক্ষরযুক্ত কাবিননামা উপস্থাপন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুল বাশারের দাবি, ওই কাজি কাবিনটি রেজিস্ট্রি হয়নি বলে লিখিত প্রত্যয়ন দিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা জানান, নাছরুম আক্তারের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ের নামে প্রতারণা এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ফরিদ নামে এক যুবককে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করার পর তার কাছ থেকে আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার ও এফডিআরের টাকা নেওয়া হয়। পরে মাইনুদ্দিন, খোরশেদ, রফিকুল ইসলাম মন্টু ও সাগর নামের আরও কয়েকজনের সঙ্গেও বিয়ের নামে প্রতারণা এবং কাবিনের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নাছরুম আক্তার বলেন, ‘আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে।’

বর্তমানে তিনি নিজেকে সাইফুল ইসলাম মাসুমের স্ত্রী দাবি করে বলেন, ‘আমি মাসুমের স্ত্রী। মাসুমের বাড়িতেই তিন বছর ধরে সংসার করছি। মাসুম মারা গেছে, তাতে সমস্যা নেই। আমি ওই বাড়িতেই থাকব।’

এ ঘটনায় মৃত মাসুমের বাবা আবুল বাশার ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে হয়রানি থেকে মুক্তি এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার দাবি করা হয়েছে।

এম

Link copied!