• ঢাকা
  • সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

আশুলিয়ায় কাভার্ডভ্যানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে দাঁড়াল ৮ জনে


সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
আশুলিয়ায় কাভার্ডভ্যানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে দাঁড়াল ৮ জনে

ছবি : প্রতিনিধি

সাভার: সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জামগড়া এলাকার প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৩০)। তিনি ওই কারখানার সামনের সড়কে কাঁচামাল বিক্রি করতেন। দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।

নজরুল ইসলামের ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে তারা আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকায় বসবাস করেন। তার বাবা ওই কারখানার সামনে পেঁয়াজ-রসুনসহ কাঁচামাল বিক্রি করতেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে বাবাকে দেখতে পান। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া (২৫), তার বাবা মোখলেস মিয়া (৪৫) এবং গাড়িচালক নুর ইসলাম (৩০)।

আহত মোখলেস মিয়া জানান, তিনি ও তার ছেলে সুজন জামগড়ার প্রীতি গ্রুপের কারখানার সামনের সড়কে কাঁচামাল বিক্রি করেন। সন্ধ্যায় কারখানার ভেতর থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ হয়। বিস্ফোরণে বিভিন্ন লোহার সামগ্রী, ইটপাটকেল ও কাচ ছিটকে এসে সুজনের মাথায় লাগে। এতে তিনি আহত হন এবং মোখলেস মিয়ার হাতেও আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

অন্যদিকে আহত নুর ইসলাম গ্যাস পরিবহনের গাড়িচালক। তার ভাগিনা মো. মাসুদ জানান, নুর ইসলামের বাড়ি বাগেরহাটে হলেও তিনি ভোলায় থাকতেন। বিস্ফোরণের ঘটনায় তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়ার ঘটনায় মোট চারজনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম মারা গেছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন ক্যাজুয়ালটি বিভাগে এবং একজন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪-এর উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে কয়েকজনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অপর নিহতদের মধ্যে সালমা নামে এক নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এছাড়া বুলবুল নামে আরও একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ ও হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

পিএস

Link copied!