• ঢাকা
  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ইনানীর রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি


কক্সবাজার প্রতিনিধি অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
ইনানীর রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ পর্যটক, যাদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে তিনতলা কাঠের রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভেতরে থাকা পর্যটকদের অনেকে বের হতে পারেননি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। উদ্ধার অভিযানে একে একে মরদেহ বের করে আনা হয়। 

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

এছাড়াও নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯) নামে এক স্কুলশিক্ষকের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। তিনি ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। অপর দুই পর্যটকের নাম জিহাদ হাওলাদার ও আকিবুল ইসলাম বলে জানা গেছে।

অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রীসহ ৬ স্বজন হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন আশিকুল ইসলাম। ঢাকার বনশ্রী থেকে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে তিনি কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার তারা কক্সবাজারে আসেন এবং আজ তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আশিকুল জানান, সকালে আগুন দেখে তার স্ত্রী তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেন। এরপর তিনি পাশের কক্ষে থাকা স্বজনদের সতর্ক করতে যান। একপর্যায়ে জানালা ভেঙে নিচে লাফ দিয়ে বের হতে পারলেও স্ত্রীকে আর উদ্ধার করতে পারেননি।

রিসোর্টটিতে আগুন কীভাবে লেগেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানিয়েছেন, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর স্থাপনাটিকে অনিরাপদ উল্লেখ করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি জানান, তিনতলা কাঠের ভবনটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুই তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের স্থাপনা পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ।

জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে আগুনের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ, রিসোর্টের অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জরুরি অবস্থায় পর্যটকদের বের হওয়ার সুযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

এসআই

Link copied!