ছবি: প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মৃত রমজান আলী নামের এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বড় মেয়ের জামাই কামরুজ্জামান মিলনের বিরুদ্ধে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোর ছয়টার দিকে পৌর শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কামরুজ্জামান মিলনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল এ হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলী মৃত্যুর আগে তিন মেয়েকে সম্পত্তির অংশ লিখে দেন। ছোট মেয়ে মনিরা মুক্তাকে নিয়ে তার স্ত্রী জাহানারা পারভীন নিজ বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। সম্প্রতি বড় মেয়ের জামাই কামরুজ্জামান মিলন দাবি করেন, ছোট শ্যালিকা মনিরা ২০১৬ সালে তাকে জমি লিখে দিয়েছেন। সেখানে তিনি বাড়ি নির্মাণ করতে চান। তবে মনিরা মুক্তার দাবি, তিনি কোনো জমি লিখে দেননি এবং দুলাভাই জোরপূর্বক বাড়ি দখলের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে দলিল বাতিলের দাবিতে আদালতে একটি মামলাও করেছেন তিনি।
শনিবার ভোরে মুখোশ পরিহিত লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে মূল ফটক, দেওয়াল, দরজা, জানালা ও আসবাবপত্র ভেঙে ফেলেন। বাধা দিতে গেলে জাহানারা পারভীন ও মনিরা মুক্তাকে মারধর করা হয়। এ সময় আলমারি ভেঙে দেড় ভরি স্বর্ণালংকার ও পৌনে দুই লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এছাড়া আশপাশের বাড়িগুলোর গেট বাইরে থেকে আটকে রেখে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।
জাহানারা পারভীন বলেন, বড় জামাই জাল দলিল তৈরি করে বাড়ি দখলের চেষ্টা করছে। জামাই হয়ে বাইরের লোকজন নিয়ে যেভাবে হামলা ও লুটপাট করেছে, তা মেনে নেওয়া কষ্টকর।
মনিরা মুক্তা বলেন, আমি আমার দুলাভাইকে সম্পত্তি লিখে দিইনি। তিনি ভুয়া দলিল দেখাচ্ছেন। আদালতে মামলা করার পর থেকে তিনি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। আজ লোকজন নিয়ে বাড়ি ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাট চালিয়েছেন। আমরা এর বিচার চাই।
অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুজ্জামান মিলন বলেন, শ্যালিকা ২০১৬ সালে তার অংশের জমি আমার নামে লিখে দিয়েছেন। সেখানে পাঁচতলা বাড়ি করার জন্য অনেকবার তাদের নেমে যেতে বললেও তারা শোনেননি। তাই দিনমজুর নিয়ে ভাঙার কাজ করতে গেছি, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
চাটমোহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লালবুর রহমান জানান, বাড়ি ভাঙার বিষয়টি সত্য এবং খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের থানায় আসার কথা বলা হয়েছে এবং অভিযোগ বা মামলার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএইচ







































