• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

তথ্য গোপন করে সম্পত্তির মালিকানা দাবি সাংবাদিক আবেদ খানের, হাইকোর্টের জরিমানা


আদালত প্রতিবেদক নভেম্বর ২২, ২০২২, ১১:২০ এএম
তথ্য গোপন করে সম্পত্তির মালিকানা দাবি সাংবাদিক আবেদ খানের, হাইকোর্টের জরিমানা

হাইকোর্টের ফাইল ছবি ইনসেটে সাংবাদিক আবেদ খান

ঢাকা : ধানমন্ডির ২ নং রোডের ২৯ নং বাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। সম্পত্তিটি পরিত্যক্ত বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসাথে এটি সরকারের বলে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। তথ্য গোপন করে এই সম্পত্তিটির বাড়ির মালিকানা দাবি করে সম্প্রতি রিট দায়ের করেন সাংবাদিক আবেদ খান। হাইকোর্টের রায়ে আবেদ খানের এই রিটের কারণে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। পৃথক দুটি রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে সোমবার (২১ নভেম্বর) এই রায় দেন উচ্চ আদালত।

আদালতে আবেদনকারী নেহাল আহমেদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আবুল হাসেম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) কাজী মাঈনুল হাসান।

রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজধানীর ধানমন্ডি ২ নং রোডের আলোচিত ২৯ নং বাড়ি ১৯৭২ সালে তৎকালীন মালিক পরিত্যাগ করে চলে যাওয়ায় সরকার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে দখল ও নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। পরে ওই সম্পত্তির উত্তরাধিকার হিসেবে মালিকানা দাবি করে সাংবাদিক তোয়াব খান, আবেদ খান ও অন্যরা প্রথম সেটেলমেন্ট কোর্টে ১৯৮৯ সালে মামলা করেন। নথি পর্যালোচনা করে প্রথম সেটেলমেন্ট কোর্ট এই সম্পত্তি সরকার আইনসঙ্গতভাবেই পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে দখল ও নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে বলে রায় দেন। এই রায় বহাল থাকা অবস্থায় এস. নেহাল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি ১৯৮৭ সালের আবেদন দেখিয়ে প্রথম সেটেলমেন্ট কোর্টে ১৯৯৬ সালে মামলা করেন।

তিনি আরো বলেন, এই মামলায় সরকারের পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হয়নি। প্রথম সেটেলমেন্ট কোর্ট কোনো সাক্ষী না দিলেও বা সমর্থনীয় এবং আবশ্যকীয় কাগজপত্র দাখিল করা না হলেও এস. নেহাল আহমেদ দাবিকারী ব্যক্তির পক্ষে রায় দেন। এই রায় বাস্তবায়নে এস. নেহাল আহমেদ হাইকোর্টে দুটি রিট করেন। এই মামলাগুলোতে সরকারের পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্বক প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত দাখিল না করায় হাইকোর্ট পুনরায় এস. নেহাল আহমেদের পক্ষে রায় দেন। রায়ের বিরুদ্ধে দেরিতে আপিল করায় আদালত আপিল তামাদি ঘোষণা করে খারিজ করে দেন।’

কাজী মাঈনুল বলেন, পরে পুরো বিষয় সরকারের দৃষ্টিতে এলে ২০১৮ সালে প্রথম সেটেলমেন্ট কোর্টের ১৯৯৭ সালের রায় চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করে। রুলের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, প্রথম সেটেলমেন্ট কোর্টের ১৯৯৭ সালের রায়টি প্রতারণামূলকভাবে ১৯৯৬ সালে তামাদির মেয়াদকে পাশ কাটানোর জন্য ১৯৮৭ সালে দায়ের দেখিয়ে লাভ করেছে। এমন প্রতারণার কারণে ও মালিকানার সপক্ষে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকায় ওই রায়টি বাতিলযোগ্য।

রায়ে বলা হয়েছে, এস. নেহাল আহমেদ দাবিকারী ব্যক্তি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন বা বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন এমন কোনো দালিলিক প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি। আবার বর্তমানে দাখিল করা এস. নেহাল আহমেদ নামের জাতীয় পরিচয়পত্রে বর্ণিত নামের বানান, বাবার নামের বানান ও বয়স বর্ণিত সম্পত্তি পরিত্যাগকারী এস. নেহাল আহমেদের নামের সাথে যথেষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। এ কারণে এস. নেহাল আহমেদের পক্ষের রায় বাতিলযোগ্য।

নেহাল আহমেদের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, সরকারের পক্ষে ২২ বছর বিলম্বে রিট দায়ের করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, রিট পিটিশন দায়েরে কোনো সময়সীমা নেই। তবে যৌক্তিক সময়সীমার মধ্যে দায়ের করা সমীচীন।

কাজী মাঈনুল হাসান বলেন, একই সম্পত্তির বিষয়ে সাংবাদিক আবেদ খান তাদের বিরুদ্ধে সেটেলমেন্টের কোর্টের দেওয়া রায় গোপন করে ২০১৫ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। তথ্য গোপন করে রিট করায় আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

নেহাল আহমেদের আইনজীবী মোহাম্মদ আবুল হাসেম বলেন, ‘গতকাল সোমবার আদালত রায়ে বলেছেন, ওই সম্পত্তি সরকারের হেফাজতে থাকবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Wordbridge School