• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯

শুল্ক কমালে লৌহ শিল্পের বাজার বাড়বে


শামসুল ইসলাম মে ১৪, ২০২২, ০৯:৩৬ পিএম
শুল্ক কমালে লৌহ শিল্পের বাজার বাড়বে

ঢাকা: লোহা আমাদের দেশে উৎপাদিত হয় না। চীন, ভারত, মালোশিয়া, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের সকল দেশই সেকেন্ডারী কোয়ালিটি ষ্টীল শীট ও কয়েল বাণিজ্যিকভাবে আমদানী করে থাকে।

আমদানীকারকরা দেশীয় শিল্প কারখানার চাহিদার ৯৫% কাঁচামাল ও অবকাঠামো শিল্পের ১০০% কাঁচামাল আমদানী করে ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রাম থেকে শুরু করে শিল্পাঞ্চলসহ সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় চার লক্ষাধিক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প কারখানা জড়িত রয়েছে। এই বৃহৎশিল্পের সাথে প্রায় ২৫ লক্ষের বেশি লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত।

লৌহ শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সোনালী নিউজের সাথে কথা বলেছেন বাংলাদেশ আয়রণ এন্ড ষ্টীল ইম্পোর্টারস এসোসিয়েশন এর সভাপতি আবু জর গিফারী জুয়েল।

জুয়েল বলেন, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প-কারখানা ও ওয়ার্কশপের কাঁচামাল হিসেবে সেকেন্ডারি স্টীল স্টকলট হিসেবে আমদানী করা হয়। আমদানিকালে বিভিন্ন সাইজ, বিভিন্ন গেজ ও বিভিন্ন এইচ এস কোডভূক্ত পণ্য একত্রিত অবস্থায় থাকে। পরবর্তিতে শুল্কায়নের সময় যা আলাদা আলাদাভাবে শুল্কহার কম বেশি এবং প্রাইম সেকেন্ডারী নির্ধারণ করার সময় জটিলতা দেখা দেয়। অনেক সময় অনভিজ্ঞ ও নতুন অফিসার যোগদান করলে আরও বেশি জটিলতার সৃষ্টি হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাইম ও সেকেন্ডারী নির্ধারণে ও শুল্কহার কম বেশি নির্ধারণে ব্যবসায়ীকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। যার ফলে একদিকে ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হন, অন্যদিকে সরকার তার প্রাপ্য রাজস্ব আহরণে বাধাগ্রস্থ হয়।

বাংলাদেশের শিল্প-নীতি অনুসারে সেকেন্ডারী কোয়ালিটি শিল্পের কাঁচামালের শুল্ক ৩% থেকে ৫% এর অধিক নয়। লৌহের শিল্প-কারখানা গুলোকে সহায়তার জন্য পৃথিবীর অনেক দেশেই এই কাঁচামালের এর উপর কোন শুল্ক নাই। যদিও আমরা আমদানী পর্যায়ে সর্বসাকূল্যে ৬৭% শুল্ক পরিশোধ করে থাকি, যা কাস্টমহাউজের (গ্রুপ-৮) অন্যতম সর্বোচ্চ রাজস্ব, তা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমাদের আমদানীকৃত সেকেন্ডারী কোয়ালিটি সীট ও কয়েল পণ্যের ব্যাপারে দেশ ও জনগনের স্বার্থে সুষ্ঠু ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ না নেয়া হয় তাহলে আমদানীকারকরা এই পণ্য আমদানীতে নিরুৎসাহিত হবে। 

বাজেটে লৌহ শিল্পের বিকাশে তার প্রস্তাবগুলো হলো, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে লৌহশিল্পের কাঁচামাল এইচএস কোড ৭২১০.৩০.০০, ৭২১০.৪৯.৯০, ৭২১০.৭০.৯০, ৭২১০.৬১.৯০, ৭২১০.৬৯.৯০, ৭২১০.৯০.০০, ৭২১০.৭০.৯৯, ৭২১০.৪০.৯৯ এর পণ্যগুলোর শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ ও মধ্যবর্তি শুল্কহার নির্ধারণ এবং আরডি প্রত্যাহার করতে হবে। ভ্যালুয়েশন রুল ২০০০ অনুসারে উপরোক্ত এইচএস কোড ভুক্ত পণ্যের সকল দেশ হতে আমদানীর ক্ষেত্রে ইনভয়েস ভ্যালুতে শুল্কায়ন, এআইটির উপর সারচার্জ প্রত্যাহার, আমদানী পর্যায়ে বন্ড ও ট্যাক্স সুবিধা বন্ধ করে উৎপাদনের পর বিপনন পর্যায়ে ট্যাক্স সুবিধা প্রদান, নায্য বাজারমূল্য যাচাই করে মূল্য সংযোগজন পরিমান হিসাব করে টন প্রতি ১৫০ টাকা, আমদানী পর্যায়ে অগ্রিম ট্রেড ভ্যাট প্রত্যাহার, রেয়াত ও রিটার্ন ব্যবস্থা সহজীকরণ, মূল্য সংযোজন কর সম্মাননাপত্র প্রদান ও ভ্যাট বকেয়া নাই এই মর্মে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান, ২ টাকার অধিক বিক্রির উপর ৬.১০ প্রত্যাহার করতে হবে।

সোনালীনিউজ/আইএ

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System