• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

আইপিও শূন্য শেয়ারবাজার, ক্ষোভ-শঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা


আবদুল হাকিম ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ০২:৪৫ পিএম
আইপিও শূন্য শেয়ারবাজার, ক্ষোভ-শঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা

ফাইল ছবি

ঢাকা: অস্থিরতায় দিন পার হচ্ছে দেশের শেয়ারবাজারে। বিরাজ করছে নানান জটিলতা ও শঙ্কা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারে। এ অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশা ছিল পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন মেলেনি। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপেও গতি ফিরে পায়নি পুঁজিবাজার।

বছরজুড়ে পুঁজিবাজারে ধরাবাহিকভাবে সূচক, লেনদেন, মূলধন কমেছে। পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী। পূঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে দেখা গেছে অনেক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি। তবে বছরজুড়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন, শৃঙ্খলা ফেরানো, অসদাচরণ রোধ, নজরদারির আধুনিকায়ন, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের চেষ্টা করাসহ আইনকানুন সংশোধন এবং আধুনিকায়নের কাজ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন (বিএসইসি)। 

অবশ্য ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) রেনাটা পিএলসির প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকারমূলক শেয়ারের লেনদেন শুরু হয়েছে। এর আগে গত ২০ আগস্ট একই প্ল্যাটফর্মে রানার অটো সাসটেইনেবিলিটি বন্ডের লেনদেন শুরু হয়।

জানা গেছে, গত বছর আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুনর্গঠন করা হয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কমিশন বাজার কাঠামো সংস্কারে উদ্যোগ নিলেও গত এক বছরে তা সম্পন্ন হয়নি। ফলে টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী পাবলিক ইস্যু রুলসের আইনি সংস্কার এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

তথ্য অনুযায়ী, দেশের পুঁজিবাজারে সর্বশেষ আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয় ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে টেকনো ড্রাগসকে। আর ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে সর্বশেষ আইপিও অনুমোদন পায় এনআরবি ব্যাংক— ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর।

এদিকে গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭টি কোম্পানির আইপিও আবেদন বাতিল করেছে বিএসইসি। ফলে মার্চেন্ট ব্যাংকাররা নতুন কোনো আইপিও আবেদন জমা দেননি। এতে আইপিও পাইপলাইন শূন্য হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, গত ১০ বছরে আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা অন্তত দুই ডজন কোম্পানির তহবিল এখনও অব্যবহৃত রয়ে গেছে। অনেক কোম্পানি নির্ধারিত সময়ে তহবিল ব্যবহার করতে পারেনি। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কয়েকটি কোম্পানি কোনো টাকা ব্যয় করতে পারেনি।

গতবছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে ৪টি এবং কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে ২টি কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করে। এছাড়া ২টি ব্যাংক বন্ড ছেড়ে মূলধন সংগ্রহ করেছে। সে হিসবে ২০২৪ সালে পুঁজিবাজার থেকে মোট ১ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করা হয়ে।

এর আগের বছরে অর্থাৎ ২০২৩ সালের পুঁজিবাজার থেকে আইপিও’র মাধ্যমে ৩টি, কিউআইও’ মাধ্যমে ৩টি, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মাধ‌্যমে ১টি ও ৪টি বন্ড ইস্যু করে মোট ১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করা হয়েছিল।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ
দেশের পুঁজিবাজার পরিস্থিতি উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। চলতি বছরের ১১ মে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই নির্দেশনাগুলো দেন প্রধান উপদেষ্টা। 

নির্দেশনাগুলো হলো- সরকারের মালিকানা রয়েছে এমন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোকে সরকারের শেয়ার কমিয়ে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, বেসরকারি খাতের দেশীয় বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, স্বার্থান্বেষী মহলের কারসাজি রুখতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এসে তিন মাসের মধ্যে পুঁজিবাজার সংস্কার করা, পুঁজিবাজারে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বড় ধরনের ঋণ প্রয়োজন এমন ব‍্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব‍্যাংকঋণ নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার থেকে বন্ড ও ইক্যুইটির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহে আগ্রহী করে তোলার ব্যবস্থা নেওয়া।

পুঁজিবাজার টাস্কফোর্সের সুপারিশ
২০২৪ বছরের ৭ অক্টোবর পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজার সংস্কারের সুপারিশের জন্য পাঁচ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে বিএসইসি। চলতি বছর বিএসইসির কাছে তারা মার্জিন রুলস, মিউচুয়াল ফান্ড ও আইপিও প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণসহ বেশ কিছু সুপারিশ জমা দিয়েছে। এসব সুপারিশ বাজারকে আরো স্বচ্ছ ও সুগঠিত করতে সাহায্য করবে বলে মনে করে পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স।

পুঁজিবাজার সংস্কারে বিএসইসির গৃহীত পদক্ষেপ
বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে ২০২৪ বছরের ১৯ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে মোটা দাগে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো-

ইন্টারন্যাশনাল প্রাকটিস অনুযায়ী সেকেন্ডারি মার্কেটে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাজার নিজ গতিতে চলতে পারে। তবে কোনো অভিযোগ বা ম্যাল প্রাকটিস বা মিস কনডাক্ট হলে তখন তদন্ত করে দেখবে বিএসইসি।

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আস্থা ফেরাতে অনিয়ম-কারসাজি-দুর্নীতি অনুসন্ধানে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি ‘অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটিকে ১২টি কার্যপরিধি দেওয়া হয়েছিল। বর্ধিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ চলতি বছরের গত ৩০ এপ্রিলের মধ্যে তারা সম্পূর্ণ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিয়েছেন।

পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৪ সালেরর ৭ অক্টোবর একটি বিশেষ পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। গঠিত টাস্কফোর্সকে ১৭টি কার্যপরিধি দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে তারা সব সুপারিশ জমা দিয়েছে।

পুঁজিবাজারে সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তদন্তের ভিত্তিতে নানা অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বিশেষ করে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন হিসেবে জরিমানা করা হয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে এ কমিশন।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনসের (আইওএসকো) স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী, যেকোনো নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়েছে কমিশন, পুঁজিবাজারের নানাবিধ সমস্যা দ্রুত সমাধান ও প্রণোদনা বা সহায়তা পেতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে কমিশন, পুঁজিবাজারে ভালো মানের মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি আনার লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে এবং দেশের রেগুলেটরগুলোর মধ্যে ইন্টারকানেকশন ও কো-অর্ডিনেশন বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বধীন কমিশন।

বিএসইসির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর মধ‌্যে রয়েছে-

আইন ও বিধি-বিধান সংস্কার-

মার্জিন রুলস, মিউচুয়াল ফান্ড ও আইপিও রেগুলেশনস আধুনিকীকরণ এবং কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে আইন ও বিধি-বিধান সংস্কার করেছে বিএসইসি।

নেগেটিভ ইক্যুইটির সমস্যা সমাধান-

নেগেটিভ ইক্যুইটির মতো বড় সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এই সংস্কারের মাধ্যমে বাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

আইপিও প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন-

আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার জন্য পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যা ইস্যু ম্যানেজারদের বিএসইসিতে সরাসরি আসা কমাবে।

দ্রুত ডিভিডেন্ড পরিশোধের উদ্যোগ- 

ডিভিডেন্ড পরিশোধে বিলম্ব এড়াতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে এজিএমের আগেই ঘোষিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড একটি আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে হয়। কোম্পানির পর্ষদ সভার পর অথবা এজিএমের অন্তত এক দিন আগে ডিভিডেন্ডের টাকা আলাদা অ্যাকাউন্টে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা কোম্পানিগুলোকে সময়মতো ডিভিডেন্ড বিতরণে বাধ্য করে।

নতুন বাজেটের সুবিধা-

বিএসইসির সুপারিশে বিও অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ ফি কমান (৪৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা), ব্রোকারদের টার্নওভার ট্যাক্স কমান (০.০৫ থেকে ০.০৩ শতাংশ) এবং তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর্পোরেট করের ব্যবধান বাড়ান (৭.৫০ শতাংশ) হয়েছে।

তদন্ত ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম-

বিএসইসি নিয়ম ভঙ্গ, আইপিও তহবিলের অপব্যবহার, ইনসাইডার ট্রেডিং ও মিউচুয়াল ফান্ডের অনিয়ম পাওয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

একীভূত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ-

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক- একীভূত হওয়া এই পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ যেন ক্ষুণ্ণ না হয়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি।

শেয়ারবাজারে আজীবন নিষিদ্ধ-

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা ও অসহযোগিতা করার অভিযোগে এলআর গ্লোবালের সিইও রিয়াজ ইসলাম, আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে পুঁজিবাজারে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সার্ভিল্যান্স সিস্টেম আপগ্রেড-

পুঁজিবাজারে অনিয়ম ও কারসাজি রোধে সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার বা সিস্টেমের হার্ডওয়ার ও সফটওয়্যার হালনাগাদকরণের (আপগ্রেড) মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এ কাজ সম্পন্ন হলে আগামীতে নজরদারিতে দুই-তিন গুণ সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করে কমিশন।

নিবন্ধ বাতিল-

ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) বিধিমালা, ২০২০ অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করায় আল হারামাইন সিকিউরিটিজ ও মাহিদ সিকিউরিটিজের সনদ বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে বেক্সিমকো সিকিউরিটিজ লিমিটেডের স্টক-ডিলার ও ব্রোকার নিবন্ধন সনদ (ট্রেক- ১৭৮) নবায়ন করা হয়নি। কারণ প্রতিষ্ঠানটির পর্ষদে থাকা সালমান এফ রহমান পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ থাকায় সনদ নবায়ন অনুমোদন করেনি বিএসইসি।

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ-

দেশের পুঁজিবাজারে প্রথমবারের মতো কমোডিটি এক্সচেঞ্জে স্বর্ণ, রুপা ও অপরিশোধিত পাম অয়েলের লেনদেন আগামী বছর থেকে পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু করা হবে। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ মে বিএসইসির ৯৫৬তম কমিশন সভায় ‘চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (কমোডিটি ডেরিভেটিভস) প্রবিধানমালা-২০২৫’ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের দ্বারে রয়েছে।

মোট বিও হিসাব-

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৬৫ হাজার ১৩৪টি। আর ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাবের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ২১ হাজার ৩৮৭টি। সেহিসেবে বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা কমেছে ৪৩ হাজার ৭৪৭টি বা ২.৬২ শতাংশ।

এর আগে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪০টি। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৮৮০টি।

একক বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব-

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি একক বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫৯টি। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত একক বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮১ হাজার ৬৭১টি। সেহিসেবে একক বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা কমেছে ১৭ হাজার ৮৮৮টি বা ১.৪৯ শতাংশ।

এর আগে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি একক বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৪২ হাজার ৯৫৮টি। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত একক বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৬৬টি।

যৌথ বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব-

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি যৌথ বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫৭৫টি। ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত যৌথ বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭১৬টি। সে হিসেবে যৌথ বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা কমেছে ২৫ হাজার ৮৫৯টি বা ৫.৫৫ শতাংশ।

এর আগে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি যৌথ বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১৩ হাজার ৪৮২টি। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যৌথ বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫১৪টি।

পুরুষ বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব-

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পুরুষ বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৬১ হাজার ৩৫০টি। আর ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরুষ বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৩১ হাজার ৭৬১টি। সেহিসেবে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ৫৮৯টি বা ২.৩৪ শতাংশ।

এর আগে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি পুরুষ বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৫৩টি। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরুষ বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৬০ হাজার ২৮৮টি।

নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব-

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি নারী বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩ হাজার ৭৮৪টি। ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত নারী বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৬টি। সেহিসেবে নারী বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা কমেছে ১৫ হাজার ১৫৮টি বা ৩.৭৫ শতাংশ।

এর আগে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি নারী বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৭টি। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত নারী বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব ছিল ৪ লাখ ৩ হাজার ৫৯২টি।

স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব-

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৪৩টি। আর ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাবের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৮৪২টি। সেহিসেবে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা কমেছে ৪০ হাজার ৬০১টি বা ২.৫০ শতাংশ।

এর আগে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ ১ হাজার ১৫৫টি। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ১৭ হাজার ১৩৬টি।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব-

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার ৬৯১টি। আর ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৫৪৫টি। সেহিসেবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ১৪৬টি বা ৬.৭৩ শতাংশ।

এর আগে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ৫৫ হাজার ২৮৫টি। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার ৭৪৪টি।

নিষ্ক্রিয় বিও হিসাব-

এদিকে বছরজুড়ে নিষ্ক্রিয় বিও হিসাবের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি নিষ্ক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৬৬ হাজার ৬৫৬টি। আর ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৮৪৩টি। সেহিসেবে নিষ্ক্রিয় বিও হিসাবের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৭টি বা ০.২৮ শতাংশ।

এর আগে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি নিষ্ক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৭২ হাজার ৩৬১টি। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৬৬ হাজার ৬৮৯টি।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ভালো কোম্পানিই পুঁজিবাজারের প্রাণশক্তি। তবে দীর্ঘসময় ধরে নতুন কোনো মানসম্মত কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা হতাশ। গত এক দশকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অর্ধেকের বেশি ছিল দুর্বল মানের। ত্রুটিপূর্ণ আইপিও বিধিমালা ও মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া, অনিয়মের মাধ্যমে নিম্নমানের কোম্পানির আইপিও অনুমোদন, সহজ ব্যাংকঋণ প্রাপ্তি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া এবং বর্তমান কমিশনের ওপর আস্থাহীনতাকে আইপিও না আসার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এএইচ/পিএস

Wordbridge School
Link copied!