• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বিএনপি-জামায়াতসহ হেভিওয়েট যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলো


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
বিএনপি-জামায়াতসহ হেভিওয়েট যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন আসনে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা, দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ, দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল না করা, ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি এবং হলফনামায় তথ্যের ঘাটতির মতো কারণে এসব সিদ্ধান্ত নেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

যশোরে সর্বাধিক মনোনয়ন বাতিল ও স্থগিত

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সিদ্ধান্ত আসে। এ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ব্যাংক ঋণ (ক্রেডিট কার্ড) সংক্রান্ত সমস্যায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এবং দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয়। একই সঙ্গে ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান বাদ পড়েন।

এ ছাড়া বিএনএফের শামসুল হক ও জাতীয় পার্টির ফিরোজ শাহর মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর, টিআইএন ও ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদের নির্দেশ দিয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

মনোনয়ন বাতিল প্রসঙ্গে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, তার ক্রেডিট কার্ডসংক্রান্ত বিষয়টি পুরোনো এবং ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। তিনি আপিল করবেন বলে জানান।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় বিএনপির মফিকুল হাসান তৃপ্তি এবং ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসান জহির ও শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন ও জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের বিষয়ে তথ্য হালনাগাদের নির্দেশ দিয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জে বিএনপির বিদ্রোহীরা বাদ

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করা বিএনপির দুই বিদ্রোহী নেতার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়ায় বাদ পড়েন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক মীর সফরত আলী সপু এবং জেলা বিএনপির সদস্য মমিন আলী।

তবে একই আসনে বিএনপির শেখ মো. আব্দুল্লাহসহ পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নাগরিকত্ব জটিলতায় রংপুরে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বাদ

রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলীর হলফনামায় যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের তথ্য উল্লেখ থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নাগরিকত্বসংক্রান্ত অস্পষ্টতার কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঞ্জুম আলী অভিযোগ করেন, তার কোনো দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই এবং সংশোধনের সুযোগ না দিয়েই মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তিনি আপিল করার পাশাপাশি আদালতে যাওয়ার কথাও জানান।

অন্যান্য জেলার সিদ্ধান্ত

কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদসহ দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের জি এম রোকনুজ্জামানসহ তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ভিন্ন এলাকার প্রস্তাবকারী ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তারা বাদ পড়েন। খুলনা-৩ আসনেও তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদ পড়েছেন।

রাঙামাটি আসনে আটজনের মধ্যে ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমার মনোনয়ন স্বাক্ষর ঘাটতির কারণে বাতিল করা হয়।

পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের মনোনয়ন বৈধ রয়েছে। তবে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী তথ্য ঘাটতির কারণে বাদ পড়েছেন।

এ ছাড়া ভোলা-২, শরীয়তপুর-১, নীলফামারী-১ ও ২ আসনেও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত এসেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। সব আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এম

Wordbridge School
Link copied!