• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বছরজুড়ে পুঁজিবাজারে হতাশাই সঙ্গী ছিল বিনিয়োগকারীদের


নিজস্ব প্রতিবেদক ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ০৫:২৫ পিএম
বছরজুড়ে পুঁজিবাজারে হতাশাই সঙ্গী ছিল বিনিয়োগকারীদের

ফাইল ছবি

ঢাকা: পতিত হাসিনা সরকারের পুরো ১৭ বছরই অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে পার করে পুঁজিবাজার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সবার প্রত্যাশা ছিল এবার হয়তো ঘুরে দাঁড়াবে শেয়ারবাজার। কিন্তু সেই স্বপ্নে গুড়েবালি।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের খবরে পুঁজিবাজারের সূচক বেড়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পর থেকে আবার পুরোনো চিত্র পুঁজিবাজারে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নিজে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি। তারা বাজার বিশ্লেষণ করে ঠিক পদক্ষেপও নেয়নি। আস্থার সংকটে ভালো শেয়ারেরও তাই দর কমছে। সরকার পতন, নতুন সরকার গঠন এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় পুঁজিবাজারে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। এ ছাড়া পুঁজিবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িত অনেকের বিরুদ্ধে বর্তমান কমিশন ব্যবস্থা নেওয়ায় নতুন করে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে না। আগের বিনিয়োগকারীরাও ভয়ে সরে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে ২০২৫ সাল সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় ও হতাশাজনক সময়গুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত। পুরো বছরজুড়ে বাজারে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহ প্রায় বন্ধ ছিল। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন অর্থ আসেনি। তারল্য সংকট কাটেনি একবারের জন্যও। বছরের শেষ পর্যায়ে এসেও বাজারে গতি ফেরার কোনো লক্ষণ ছিল না।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) বিদায়ী বছরে কোনো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আবেদন জমা পড়েনি। এই সময়ের মধ্যে নতুন আবেদন এলেও যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিনিয়োগ বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। অথচ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৮০ শতাংশই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। এই বিশাল অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় বাজারে স্বাভাবিক গতি ফেরানো সম্ভব হয়নি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে আইপিও তো আসেইনি, এমনকি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের কোনো কোম্পানিও কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) প্রক্রিয়ায় বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে পুরো বছরজুড়ে নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি। এতে করে বছর জুড়ে বেশিরভাগ সময় কমেছে সূচক। লেনদেনও আগের বছর থেকে কমেছে। তবে বাজার মূলধন আগের বছর থেকে কিছুটা বেড়েছে।

বছর শেষে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে। আগের বছর শেষে এই সূচক ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্টে। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডিএসইএক্স ৩৬১ পয়েন্ট বা ৬.৭২ শতাংশ কমেছে।

অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বছর শেষে দাঁড়ায় ১০০০ পয়েন্টে। আগের বছরের শেষ কর্মদিবস এই সূচক ছিল ১ হাজার ১৬৮ পয়েন্টে। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডিএসইএস ১৬৮ পয়েন্ট বা ১৪.৩৮ শতাংশ কমেছে।

আর ডিএস-৩০ সূচক বছর শেষে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৫৩ পয়েন্টে। আগের বছর শেষ কর্মদিবস এই সূচক ছিল ১ হাজার ৯৩৯ পয়েন্টে। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে এই সূচক ৮৬ পয়েন্ট বা ৪.৪৩ শতাংশ কমেছে।

এদিকে বিদায়ী বছরে পুঁজিবাজার থেকে বাজার মূলধন ১৫ হাজার ৫৬২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বা ২.৩৪ শতাংশ বেড়েছে। বছরের শেষ দিন বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৮২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আগের বছরের শেষ কর্মদিবস বাজাার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৬২ হাজার ৬১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

পিএস

Wordbridge School
Link copied!