ছবি : প্রতিনিধি
ঢাকা: ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগ দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করা সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এবার নারী আমানতকারীরা অংশগ্রহণ করেছেন। এই আন্দোলনে এতদিন শুধুমাত্র পুরুষ আমানতকারীদের অংশগ্রহণ থাকলেও এবার শতাধিক নারী আমানতকারীও অংশ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (০৯ জুন) পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন নারী আমানতকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা রাষ্ট্রের স্বার্থে লুটেরাদের হাত থেকে ইসলামী ব্যাংককে বাঁচাতে রাস্তায় নেমে এসেছেন। ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও ভেঙে পড়বে। তাই, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে পুরুষ আমানতকারীদের পাশাপাশি তারাও রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন।
আন্দোলনরত একজন নারী আমানতকারী জানান, ইসলামী ব্যাংক ইসলামী শরিয়াহ আইন মেনে পরিচালিত হয়। এই ব্যাংকে টাকা রেখে মুসলিম হিসেবে আমরা সুদমুক্ত মুনাফা করতে পারি। এই ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের আমানত নিরাপদ রাখার মতো দেশে আর কোনো বিশ্বস্ত ব্যাংক থাকবে না। তাই নিজেদের আমানতের নিরাপত্তা দিতে আমরা এই ব্যাংকটিকে লুটেরাদের হাত থেকে বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছি।
আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা ব্যাংকটির চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের নিয়োগ বাতিল, ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুকের পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
এর আগে, গত ১ জুন (সোমবার) সকালে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন শুরু করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
ওই সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এরপর থেকে টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ওই আন্দোলনের মধ্যেই গত ১ জুন রাতে ব্যাংকের এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এমডি মো. ওমর ফারুকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।
এএইচ/পিএস







































