• ঢাকা
  • সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন আমানত ২৭০০ কোটি, হিসাব খুলেছেন ৩২ হাজার গ্রাহক


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন আমানত ২৭০০ কোটি, হিসাব খুলেছেন ৩২ হাজার গ্রাহক

ফাইল ছবি

ঢাকা: দুর্বল পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে আমানত আসছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিনে ব্যাংকটিতে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার নতুন আমানত জমা হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩২ হাজার ৭৪টি হিসাব খোলা হয়েছে, এসব হিসাবে জমা হয়েছে প্রায় ৩৭৮ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য আবেদন করা গ্রাহকদের একটি বড় অংশ এখনো অর্থ উত্তোলন করেননি। ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮২ জন গ্রাহক মোট ৬ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন। এর মধ্যে ৯০ হাজার ৯৮ জন গ্রাহক ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা তুলেছেন। অর্থাৎ আবেদনকারীদের প্রায় অর্ধেক এখনো টাকা তোলেননি।

ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একদিকে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন আমানতও আসছে। পাশাপাশি নতুন হিসাব খোলার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন আমানত হিসেবে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এসেছে। এর মধ্যে নতুন করে খোলা ৩২ হাজার ৭৪টি হিসাবে জমা হয়েছে প্রায় ৩৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন হিসাবের পাশাপাশি বিদ্যমান হিসাবেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে।

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, অনেক গ্রাহক টাকা উত্তোলনের আবেদন করলেও প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থ তুলছেন। ফলে আবেদন করা অর্থের পুরোটা একসঙ্গে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে না। একই সময়ে নতুন আমানত আসায় ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ বিষয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, ‘গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি ব্যাংকে অর্থের প্রবাহও অব্যাহত রয়েছে। ব্যক্তিগত হিসাবগুলোতে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন কার্যক্রম চলছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল আমানতের টাকা ফেরত দিতে তারল্য সহায়তা হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অর্থের মাধ্যমে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকটির ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা তুলতে পারবেন। তবে মেয়াদি আমানতের পুরো মূল টাকা এককালীন তুলে নিলে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, যারা এখনই টাকা তুলবেন না এবং আমানত চালু রাখবেন, তাঁরা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সময়ে মুনাফাসহ অর্থ জমা ও উত্তোলনের পূর্ণ সুযোগ থাকবে।

চরম অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবেই রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, সাময়িক সংকট কাটিয়ে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে। নতুন আমানত আসা এবং নতুন হিসাব খোলার প্রবণতাকে তারা গ্রাহকদের আস্থা ফেরার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।

এএইচ/পিএস

Link copied!