শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও শ্রেণিকক্ষকেন্দ্রিক করতে কোচিং সেন্টার, নোট–গাইড ও প্রাইভেট টিউশন বন্ধে কঠোর সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে সরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষা আইন, ২০২৬–এর একটি খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে আইন কার্যকরের তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এসব কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা বলা হয়েছে।
খসড়ার আলোকে কোচিং সেন্টার পরিচালনা, সহায়ক বই প্রকাশ এবং প্রাইভেট টিউশন নিয়ন্ত্রণে একটি পৃথক বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিধিমালার খসড়া মতামতের জন্য ইতোমধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত খসড়া শিক্ষা আইনে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত বিধিমালার মাধ্যমে শুরুতে কোচিং, নোট–গাইড ও প্রাইভেট টিউশন কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে এসব কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করে আইন কার্যকর হওয়ার তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কোচিং ও গাইডনির্ভর শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও মৌলিক শেখার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তে নোট ও গাইডে নির্ভরতার ফলে শিক্ষার্থীরা মুখস্থবিদ্যায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মানের অবনতি ঘটাচ্ছে।
তারা আরও বলেন, কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য বাড়াচ্ছে। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারগুলো অতিরিক্ত সুবিধা পেলেও দরিদ্র ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। ফলে শিক্ষা হয়ে উঠছে অসম ও বৈষম্যমূলক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর করা। এজন্য দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, পাঠ্যবইভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি জোরদার এবং বিদ্যালয়ে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে কোচিং সেন্টার, নোট–গাইড ও প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করা অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এ উদ্যোগের বিরোধিতাও দেখা গেছে। অভিভাবক ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, শাস্তির বিধান ছাড়া শিক্ষা আইন প্রণয়ন অর্থহীন ও লোক দেখানো। মাত্র এক সপ্তাহ মেয়াদ থাকা সরকারের পক্ষে এমন গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে খসড়া আইন ঘুরিয়ে সময় নষ্ট করেছে। এখন বিদায়ী সরকারও একই পথে হাঁটছে এবং শিক্ষা আইন প্রণয়নের নামে সরকারি অর্থ অপচয়ের চেষ্টা করছে। এ উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত এ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান তিনি।
এম







































