চার বছর আগের সেই দুঃসহ স্মৃতি ও আইনি টানাপোড়েন নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ২০২১ সালে র্যাবের অভিযানে নিজের গ্রেপ্তার হওয়াকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ ও ‘বিশেষ মহলের চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই ঘটনার জেরে হারিয়ে যাওয়া সামাজিক মর্যাদা এবং মানসিক বিপর্যস্ততার দায় কার—তা নিয়ে রাষ্ট্রের দিকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন এই ঢালিউড তারকা।
শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ ও আবেগঘন স্ট্যাটাসে পরীমনি এসব কথা বলেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরীমনি র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে এই সাবেক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সরাসরি নির্দেশে বনানীর বাসায় দীর্ঘ অভিযান শেষে পরীমনিকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে দেশের মানুষের সামনে সত্য উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী।
গ্রেপ্তার পরবর্তী অভিজ্ঞতাকে জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় আখ্যা দিয়ে পরীমনি লেখেন, "মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়টা আমার জীবনকে কতটা বিপর্যস্ত করেছে, তা শুধু আল্লাহ আর আমিই জানি। একজন শিল্পী, একজন নারী এবং একজন মানুষ হিসেবে আমাকে গভীরভাবে আঘাত করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, যেভাবে তার চরিত্র ও নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জনসমক্ষে অপদস্থ করা হয়েছে, তা দেশের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে এবং আজও তিনি এর মানসিক ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন।
তিনি আরও লেখেন, ‘পরবর্তী সময়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।’
স্ট্যাটাসে পরীমনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি ওই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হিসেবেই জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।’
রাষ্ট্রের উদ্দেশে কয়েকটি প্রশ্নও তুলেছেন এ অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে?’
তবে অতীত নিয়ে প্রতিশোধ নয়, সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকতে চান বলে উল্লেখ করেছেন পরীমনি। তিনি লিখেছেন, ‘আমি কাউকে ছোট করতে চাই না, কাউকে অপমানও করতে চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন।’
যেসব মামলায় জড়িয়েছেন পরীমনি
বর্তমানে পরীমনিকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে র্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পরীমনির বাসা থেকে বিদেশি মদ, চার গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ) এবং একটি এলএসডি ব্লট উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে এ মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পরীমনির আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
অন্যদিকে একই ঘটনার জেরে ২০২২ সালের ১৮ জুলাই পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ, বোট ক্লাবে অ্যালকোহল বিনা মূল্যে দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন এবং গ্লাস ছুড়ে মারেন। মামলাটিও বিচারাধীন।
এম







































