• ঢাকা
  • সোমবার, ০১ মার্চ, ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭

যেসব যুক্তিতে ৯ম গ্রেড চান দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তারা


নিউজ ডেস্ক জানুয়ারি ২৪, ২০২১, ০৯:২৪ এএম
যেসব যুক্তিতে ৯ম গ্রেড চান দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তারা

ফাইল ফটো

ঢাকা: জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে সচিবালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তারা একাট্টা হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে ইতিবাচক প্রস্তাবনা না পাঠালে চলতি সপ্তাহে তারা ফের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সমবেত হবেন। এমন আভাস দিয়েছেন দাবি আদায় কার্যক্রমে যুক্ত থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, এ বিষয়ে ত্বরিত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনের সিনিয়র নেতারা ১৯ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. আলি কদরের সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দাবির সপক্ষে নিজেদের শক্ত অবস্থান সম্পর্কে জানান দিতে শতাধিক এওপিও করিডোরে ভিড় করেন।

আরও পড়ুন: এসএসসি-এইচএসসির ক্লাস প্রতিদিন, বাকিদের সপ্তাহে একদিন

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের এ দাবি শতভাগ যৌক্তিক। কেন না. ইতোমধ্যে তাদের সমমর্যাদার কয়েকটি পদকে এভাবে নবম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। ১০ম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে পুলিশ পরিদর্শকের পদকে। সহকারী পুলিশ সুপার পদও নবম গ্রেডের। যদিও পরিদর্শক থেকে নন-ক্যাডার কোটায় সহকারী পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। একইভাবে রেভিনিউ অফিসার এবং উপ-সহকারী কমিশনার পদকে নবম গ্রেডে আপগ্রেড করা হয়েছে। যদিও তাদের পদোন্নতির পদ হলো সহকারী কমিশনার (কর) ও সহকারী কমিশনার (কাস্টমস)। এটিও কিন্তু নবম গ্রেডের।

সুতরাং এখানে কোনো সমস্যা না হলে তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে কেন? তারা বলেন, সচিবালয়ের এওপিও পদকে এখন ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা হোক। এরপর তাদের মধ্য থেকে যখন নন-ক্যাডার কোটায় সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে তখন তাদের গ্রেড আপগ্রেডেশন নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না। অর্থাৎ তারা বলতে চাচ্ছেন, একটি হলো পদ আপগ্রেড এবং অপরটি হলো পদোন্নতি। একটির সঙ্গে অপরটির সাংঘর্ষিক কোনো অবস্থা নেই।

আরও পড়ুন: সংসদে অটো পাস বিষয়ে শিক্ষা বিল পাস

ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা বলেন, এতসব চুক্তি থাকারও পরও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এওপিওরা এক সময় পদোন্নতি পেয়ে সহকারী সচিব তথা নবম গ্রেডে উন্নীত হবেন। ফলে তাদেরকে পদোন্নতির আগে নবম গ্রেড দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। কিন্তু ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের কথা হলো, সহকারী সচিব পদে সবাই তো পদোন্নতি পাবে না। নির্ধারিত কোটার মধ্যে কিছুসংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাও স্বাভাবিক নিয়মে কখনো পদোন্নতি হয় না।

এজন্য পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তাদের মাসের পর মাস তদবির করতে হয়। তাছাড়া কোটা অনুযায়ী সহকারী সচিবের যতসংখ্যক পদ পাওয়ার কথা, ততটি পদ এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। অথচ নানা অজুহাতে অহরহ প্রশাসন ক্যাডারের পদ সৃষ্টিসহ শূন্যপদের বাইরেও হরহামেশা পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবিদাওয়াও বেশ প্রাধান্য পাচ্ছে।

কিন্তু প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে চাকরি করার পরও তাদের দাবি দীর্ঘদিন থেকে উপেক্ষিত রয়ে গেছে। এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষান্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি। বরং মাঠ প্রশাসনে কর্মরতদের দাবি পূরণে সায় দেওয়া হলেও সচিবালয়ে কর্মরত প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের চাকরি ১০ম থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত করার প্রশ্নে নানা যুক্তি দাঁড় করানো হচ্ছে।

এদিকে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নেতাদের কয়েকজন বলেন, এওপিওদের ১০ম থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিটি যৌক্তিক। তবে তাদেরকে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা হলে ১০ম গ্রেডে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে। সঙ্গত কারণে তৃতীয় শ্রেণির পদধারীদের সেটি ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রাপ্য হবে। তারা আশা করছেন, তাহলে একই প্রস্তাবে দ্বিতীয় শ্রেণির পদধারী এওপিওদের ৯ম গ্রেড এবং তৃতীয় শ্রেণির পদে থাকা অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুদ্রাক্ষরিক পদসহ সমমর্যাদার পদধারীদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হোক। সূত্র: যুগান্তর

সোনালীনিউজ/এইচএন