• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ইরানের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে যে পদক্ষেপ নিল সৌদি আরব


নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
ইরানের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে যে পদক্ষেপ নিল সৌদি আরব

ফাইল ছবি

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাত্রা এবং সময় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। তেহরান বা তার মিত্রদের (প্রক্সি) পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনও পাল্টা জবাব এড়াতে এবং অঞ্চলটিকে একটি ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে রিয়াদ।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, শনিবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে এই বার্তা পৌঁছে দেন। ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক নিন্দার পরপরই তিনি এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ নেন।

সূত্রগুলো বলছে, ফোনালাপগুলো সংক্ষিপ্ত হলেও সেখানে একটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করছে, ইরানের পাল্টা হামলার তীব্রতা প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। তাই এখন এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না, যা তেহরানকে আরও উত্তেজিত করতে পারে। যুবরাজের এই বার্তার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহর কথাতেও। তিনি আঞ্চলিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাপকালে উত্তেজনা প্রশমন এবং জিসিসি (উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ) দেশগুলোর মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েমেন ও সুদান ইস্যু নিয়ে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে যুবরাজ সালমানের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের মাঝে এই ফোনালাপ প্রমাণ করে যে, ইরানের পাল্টা আঘাত এই অঞ্চলকে কতটা তটস্থ করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার আগে রিয়াদকে অবহিত করলেও সৌদি আরব হোয়াইট হাউজের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেয়নি। তবে প্রকাশ্যে তারা হামলার বিরোধী ছিল। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি যুদ্ধ এড়াতে মধ্যস্থতা করছিলেন। তিনি এই হামলায় চরম ‘হতাশা’ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধের ফাঁদে ফেলেছে। বুসাইদি মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি আপনাদের যুদ্ধ নয়। দয়া করে এর গভীরে আর জড়াবেন না।

সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় ভয় হলো, কোনোভাবে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। হুথিরা বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তির কারণে লোহিত সাগরে হামলা বন্ধ রেখেছে। রিয়াদের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হেশাম আলগান্নাম মনে করেন, সৌদি আরব যদি নিজেকে ইরান-বিরোধী ফ্রন্ট থেকে কৌশলে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে, তবে হুথিরা যুদ্ধে নামা থেকে বিরত থাকতে পারে।

সৌদি আরব নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত কিছুটা ভিন্ন সুর দিচ্ছে। দেশটির প্রতিমন্ত্রী রিম আল হাশিমী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যদি ইরানের হামলা অব্যাহত থাকে তবে তারা প্রয়োজনে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারে। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে সব পথই খোলা থাকবে। এখন বল ইরানের কোর্টে।

অন্যদিকে, কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হামাদ বিন জাসিম আল থানি সতর্ক করেছেন যে, কোনও অপশক্তির প্ররোচনায় সরাসরি ইরানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানো উচিত হবে না। এতে উভয় পক্ষের সম্পদ ও সক্ষমতা নিঃশেষ হবে এবং বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে।

তবে সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মজিদ আল-আনসারি বলেছেন, এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার অধিকার কাতারের রয়েছে এবং ইরানকে এর জন্য ‘চড়া মূল্য দিতে হবে’।

কাতারের এই মুখপাত্র জানান, তার দেশ ইতোমধ্যে ১০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং অসংখ্য ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের এই হামলায় সামরিক নিশানার পাশাপাশি বেসামরিক এবং বাণিজ্যিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!