• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

সৌদির কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১১:৫২ এএম
সৌদির কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

সৌদি আরবের কাছে ২৪.৩ বিলিয়ন ডলারে ৪৮টি এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরবের এটি সর্বশেষ বড় ধরনের অস্ত্র কেনার উদ্যোগ। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দীর্ঘদিন ধরেই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে সৌদি আরব। তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র এফ-৩৫ পরিচালনাকারী দেশ ইসরাইল সৌদি আরবের কাছে এই যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। একই সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্যও চাপ রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিমান বিক্রি সৌদি আরবের নিজ ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলায় দেশটির প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতাও উন্নত হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবের সামরিক বিমান সক্ষমতা বাড়বে এবং আকাশ থেকে আকাশে ও আকাশ থেকে স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আত্মরক্ষার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাস এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কের  ‘শক্তি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতি’ প্রতিফলিত করে। দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় অবদান রেখেছে, যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করেছে এবং অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ এগিয়ে নিয়েছে বলেও দূতাবাস জানিয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরানের বাহিনী সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ কয়েক বছর ধরে অনেকটা স্থবির ছিল। তবে জুলাইয়ে হুথি বিদ্রোহী ও রিয়াদ-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধ ঘোষণা করে এবং লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।

যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই সংঘাতে যোগ দেয়নি। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সৌদি বাহিনীর জন্য গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা বাড়াতে একটি মার্কিন সামরিক টাস্কফোর্স কাজ করছে।

কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন

প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে। চুক্তিটি কার্যকর করতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তবে যুদ্ধবিমানগুলো কখন সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এফ-৩৫ বিক্রি হলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তন হবে না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—আঞ্চলিক সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তুলনায় ইসরাইলকে সামরিকভাবে এগিয়ে রাখার নীতি।

যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কেবল তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছেই এফ-৩৫ বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি ন্যাটো সদস্য ও ইসরাইল রয়েছে।

২০১৯ সালে ন্যাটোর সদস্য তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন। কারণ, তুরস্ক রাশিয়ার তৈরি একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা তৈরি হয় যে, এর মাধ্যমে মস্কো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পারে।

বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি

এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে চীনের সম্ভাব্য গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস চলতি সপ্তাহে জানায়, মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের বিভিন্ন অংশীদারত্বের মাধ্যমে বেইজিং এফ-৩৫-এর প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্য পেতে পারে।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি এ কারণে চুক্তিটির বিরোধিতা করেছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যখন সতর্ক করছে যে এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নাগালের মধ্যে চলে যেতে পারে, তখন চুক্তিটি এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়।

চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবের কাছে ৫ বিলিয়ন ডলারে ১০ হাজারের বেশি বোমা বিক্রির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অত্যন্ত ধ্বংসক্ষম ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমাও রয়েছে।

এছাড়া চলতি মাসে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারে ৬০টি ট্যাংকের ইঞ্জিন ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম এবং জুলাইয়ে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলারে রকেটকে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত গাইডেন্স সেকশন সৌদি আরবের কাছে বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এম

Link copied!