• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

আতঙ্কের বছর ২০২৫

মব সন্ত্রাস আর পরিকল্পিত হত্যার ছায়া


আতঙ্কের বছর ২০২৫ ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৭:৩৪ পিএম
মব সন্ত্রাস আর পরিকল্পিত হত্যার ছায়া

ফাইল ছবি

বিদায়ী ২০২৫ সালজুড়ে বড় আতঙ্ক হয়ে উঠেছিল মব সন্ত্রাস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। চুরি, ধর্ম অবমাননা কিংবা চাঁদা না দেওয়ার অভিযোগ তুলে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যা, মরদেহে আগুন দেওয়া, স্থাপনা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অনেক ক্ষেত্রে এসব হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও সাজানো অভিযোগের ফল।

সারা বছরজুড়ে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, মাজার ও খানকা শরিফ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সাংবাদিক, শিক্ষক, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বাউলশিল্পী, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো ছিল মবের লক্ষ্যবস্তু। কোথাও ঘোষণা দিয়েই দলবদ্ধ হয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে।

বছরের শেষ মাসে ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর তাঁর মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। ফরিদপুরের গোয়ালন্দে তৌহিদি জনতা পরিচয়ে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার কবর, বাড়ি ও দরবার শরিফে হামলা চালানো হয়। কবর থেকে মরদেহ তুলে এনে মহাসড়কে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

রংপুরের তারাগঞ্জে মেয়ের বিয়ের দিন ঠিক করতে গিয়ে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন রূপলাল ও প্রদীপ নামে দুই ব্যক্তি।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এক বছর পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় দৃশ্যমান বিচারিক অগ্রগতি নেই।

ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ইট-পাথর দিয়ে থেঁতলে, বিবস্ত্র করে, শরীরের ওপর উঠে লাফিয়ে হত্যা করা হলেও ভিডিওতে দেখা যাওয়া একাধিক হামলাকারী এখনো ধরা পড়েনি।

১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

ডিএমপি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে। র‍্যাব অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানালেও পরিকল্পনাকারী ও শুটার এখনো পলাতক। তদন্তে উঠে এসেছে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন গুলি করার পর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ মামুন গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রেপ্তার ও একজনের স্বীকারোক্তি মিললেও অপরাধের নেপথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত ১২ জন গ্রেপ্তার হলেও পরিবার বলছে, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

২০২৫ সালজুড়ে বিচার ছাড়াই প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা, মরদেহ পোড়ানো ও চরম নৃশংসতার ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রকে কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্বাসের পরও অধিকাংশ ঘটনায় অপরাধীরা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

বিদায়ী বছরটি রেখে গেছে এক ভয়ংকর স্মৃতি-মবের হাতে আইন, বিচার আর মানবতা বারবার পরাজিত হয়েছে। প্রশ্ন একটাই, এই সহিংসতার দায় শেষ পর্যন্ত কার?
 

Wordbridge School
Link copied!