ছবি: প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে আজমীর আলম (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে একটি ভাড়াটিয়া কক্ষ থেকে তাঁর নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আজমীর আলম গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার সোর্দি মাতুব্বর পাড়ার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মিরপুর এলাকায় গার্মেন্টস জুট কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর হাজরা নামের এক বাড়িওয়ালীর একটি ভাড়াটিয়া কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। কক্ষটি যৌনকর্মী জুলির নামে ভাড়া নেওয়া ছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে আজমীর আলম ওই কক্ষে অবস্থান করেন। বুধবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে তিনি সিগারেট আনার জন্য জুলিকে বাইরে পাঠান। প্রায় আধা ঘণ্টা পর জুলি ফিরে এসে তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক সেলিম মোল্লার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যৌন উত্তেজক ওষুধের অবাধ বিক্রি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পল্লীর অধিকাংশ দোকানেই এসব ওষুধ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এসএইচ







































