ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষ হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল পাঁচটায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে নবম জাতীয় পে কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার তিনি জানান, প্রতিবেদনে এমন সুপারিশই রাখা হয়েছে, যাতে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে–স্কেল পেয়ে সন্তুষ্ট হবেন। পে কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খানসহ কমিশনের সব সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এদিকে নবম জাতীয় পে–স্কেল চূড়ান্ত করতে বুধবার শেষ সভা করছে পে কমিশন। বেলা ১২টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরাতন ভবনের সম্মেলন কক্ষে পূর্ণ কমিশনের এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় পে–স্কেলের সব বিষয় চূড়ান্ত করে বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুপারিশ হস্তান্তর করা হবে।
পে কমিশন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে–স্কেলের বিষয়গুলো মোটামুটি চূড়ান্ত। সভায় খসড়া সুপারিশ আরেক দফা পর্যালোচনা ও সামান্য সংশোধনের পর তা জমা দেওয়া হবে। কমিশনের সুপারিশের কপি কোনো সদস্যের কাছেই রাখা হবে না। এটি শুধু প্রধান উপদেষ্টার কাছেই থাকবে এবং প্রয়োজনে পরে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সময় কয়েকটি কপি মুদ্রণ করা হতে পারে।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন বেতনকাঠামো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা সর্বনিম্ন বেতন দ্বিগুণের বেশি বাড়তে পারে। এখন সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ৭৮ হাজার টাকা থাকলেও নতুন স্কেলে তা এক লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত রাখা হচ্ছে ১:৮।
নতুন পে–স্কেল আংশিকভাবে কার্যকর করার অংশ হিসেবে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পুরো মাত্রায় নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় নিচের ধাপে বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণে গত বছরের ২৭ জুলাই ২১ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।
এসএইচ







































