ফাইল ছবি
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য আসছে নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন কমিশন আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। এবারের প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় সুখবর হিসেবে থাকছে নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীদের জন্য নজিরবিহীন সুবিধা।
সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হবে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশনভোগীদের জন্য বৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের জন্য ৫৫ শতাংশ।
পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতাও বড় হারে বাড়ছে। ৭৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য মাসিক চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
বৈশাখী ভাতায় আড়াই গুণের বৃদ্ধি
নবম পে-স্কেলে বৈশাখী ভাতার হারও বড় হারে বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা দেওয়া হলেও কমিশন প্রস্তাব করেছে এটি বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হোক। ফলে উৎসব ভাতার পরিমাণ আড়াই গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
অন্যান্য সুবিধা ও ভাতা
প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতার পরিসরও বৃদ্ধি পাবে। এতদিন ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা যাতায়াত ভাতা পেতেন। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১০ম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত এই ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বাড়িভাড়া ভাতা প্রথম থেকে দশম গ্রেডে তুলনামূলক কম এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে তুলনামূলক বেশি হারে নির্ধারণ করার প্রস্তাব রয়েছে।
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন
নতুন পে-স্কেলে গ্রেডভেদে বেতন বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত।
• সর্বনিম্ন বেতন (২০তম গ্রেড): ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা
• সর্বোচ্চ বেতন (১ম গ্রেড): ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা বিভিন্ন যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।
২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীর জীবনযাত্রার মান ও কর্মস্পৃহা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসএইচ



















-20261023105530-20261027104202.jpg)



















