ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগে যারা ভালো মানুষ এবং দেশকে ভালোবাসেন, তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী আপন ঠিকানা খুঁজে নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ফের ফিরে আসবে-এমন কল্পনা যেন কেউ না করেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণ, দেশ গঠন, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূর করার জন্য হয়ে থাকে, তবে আওয়ামী লীগের সেই রাজনীতি করার কোনো যোগ্যতা নেই। আর এই কারণেই বাংলাদেশে দলটির রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই বলে তিনি মনে করেন।
আওয়ামী শাসন আমলে জামায়াত নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সুদীর্ঘ ৪০ বছর পর মিথ্যা মামলা দিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। তবে ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময়ও তারা বিন্দুমাত্র ভয় পাননি। কারণ তারা বিশ্বাস করতেন যে তাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে এবং তারা শহীদের মর্যাদা লাভ করবেন।
ন্যায়বিচারের ওপর জোর দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, "আমরা ন্যায়বিচার চাই, কারও ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া বিচার চাই না। অন্যায়ভাবে কাউকে ফাঁসি দেওয়া তো দূরের কথা, তার একটা চুল পরিমাণ ক্ষতি করাও আমরা সমর্থন করি না। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সঠিক ন্যায়বিচার হলে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার অবশ্যই নিশ্চিত হবে।"
গুমের শিকার পরিবারগুলোর অমানবিক দুর্ভোগ ও কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বহু মা-বাবা আজও জানেন না তাদের সন্তান জীবিত আছেন নাকি মারা গেছেন। এমনকি কেউ মারা গিয়ে থাকলেও তার কবরটি কোথায়, তাও তাদের জানা নেই।
ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশকে আর কখনোই কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না। দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং ভবিষ্যতে যারা রাজনীতি করবেন, তাদের অবশ্যই মানবিক রাজনীতি করতে হবে। দেশে পাশবিকতা ও সন্ত্রাস নির্ভর রাজনীতির দিন শেষ, আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ জাতি আজীবন বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে। তাদের এই মহান আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেই ঋণ পরিশোধের চেষ্টা নিরন্তর অব্যাহত রাখতে হবে।
সংবিধান ও শাসনব্যবস্থা প্রসঙ্গে গণভোটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জনগণ কেবল সংবিধানে সামান্য কিছু পরিবর্তনের জন্য গণভোটে রায় দেয়নি; বরং তারা রাজনীতিতে এক আমূল ও গুণগত পরিবর্তন দেখতে চেয়েছে। তাই এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে দেশ ও জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে কারও ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার আর কোনো সুযোগ থাকবে না।
পরিশেষে দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ন্যায়বিচার, সততা, মানবিকতা ও জনগণের কল্যাণকেই আগামী দিনের রাজনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
এসএইচ

















-20261023105530-20261027104202.jpg)





















