• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ওসির বিরুদ্ধে সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ


শরীয়তপুর প্রতিনিধি অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
ওসির বিরুদ্ধে সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ

ছবি : প্রতিনিধি

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে পুলিশ সুপার ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মতি খান ওরফে মনির হোসেন (৫০) নামে এক ব্যবসায়ী।

এদিকে জাজিরা থানার ওসি ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওঠা একাধিক অভিযোগ নতুন করে পুলিশের ভূমিকা, তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এর আগেও জাজিরা থানার ওসির বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও চাঁদাবাজির মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না করা এবং এক বিএনপি নেতার ‘ভুয়া’ জামিননামা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া একই থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) ঘুষ দাবির অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাদের পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

গত ২১ অক্টোবর পুলিশ সুপার, শরীয়তপুর ও আইজিপি বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন মতি খান। অভিযোগে তিনি জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহাম্মদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ আনেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওসি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মতি খান জাজিরা উপজেলার ডুবিসারবর এলাকার বাসিন্দা এবং কাজিরহাট বাজারের একজন ব্যবসায়ী। একই বাজারের ব্যবসায়ী মিনার শাহ ও বাদল শাহের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল।

মতি খানের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে মিনার শাহ ও বাদল শাহ তাঁর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকার মালামাল বাকিতে নেন। পরে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলে আরও এক লাখ টাকা ধার নেন তারা। সব মিলিয়ে তাদের কাছে তাঁর পাওনা দাঁড়ায় আড়াই লাখ টাকা।

অভিযোগে বলা হয়, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে মিনার শাহ ও বাদল শাহ নানা টালবাহানা করতে থাকেন। গত ৬ অক্টোবর সকালে জাজিরা উপজেলার গঙ্গানগর এলাকায় তাঁদের বাড়ির সামনে গিয়ে টাকা চাইলে তাঁকে গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে দাবি করেন মতি খান। এ সময় তাঁকে মারধর এবং ভবিষ্যতে টাকা চাইতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন মতি খান। 

তাঁর দাবি, অভিযোগ দেওয়ার পর থানার ওসি সালেহ আহাম্মদ তাঁকে থানায় ডেকে পাঠান। সেখানে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে আলোচনার একপর্যায়ে তাঁর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে তাঁকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় এবং কাগজটি থানায় রেখে দেওয়া হয়।

মতি খানের আশঙ্কা, তাঁর অজান্তে ওই সাদা কাগজে পরবর্তী সময়ে কোনো মিথ্যা বক্তব্য, আপসনামা কিংবা তাঁর জন্য ক্ষতিকর কোনো দলিল তৈরি করা হতে পারে। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

পুলিশ সুপার ও আইজিপি বরাবর দেওয়া অভিযোগে মতি খান ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বাক্ষর নেওয়া সাদা কাগজটি উদ্ধার এবং সেটির অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সজিব মোল্লা বলেন, “আমরা জানি, মতি খান বাদল শাহ ও মিনার শাহের কাছে টাকা পেতেন। স্থানীয়ভাবে বসে কিছু টাকা পরিশোধও করা হয়েছিল। এরপর শুনলাম, বাকি টাকা চাওয়ায় মতি খানকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সে কারণে তিনি থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থানার ওসি নাকি মতি খানের কাছ থেকে জোর করে সাদা কাগজে সই নিয়েছেন। এমনটা হলে আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব, ন্যায়বিচার পাব কীভাবে?”

অন্যদিকে, মতি খানের অভিযোগে অভিযুক্ত মিনার শাহ ও বাদল শাহের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকারিয়া রহমান বলেন, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অনুসন্ধান করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জাজিরা থানার ওসি ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওঠা অভিযোগগুলো পৃথক ঘটনা। তবে এসব অভিযোগের তদন্ত ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থার বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন থানার বাসিন্দারা।

পিএস

Link copied!