ফাইল ছবি
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। সরকার রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং বিলাসী ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে চকলেট, বিস্কুট, কোমল পানীয়, মদ্যপ পানীয়, তামাকজাত দ্রব্য এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ওপর উচ্চ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রস্তাবিত তফসিল অনুযায়ী, খুচরা বিক্রয়ের জন্য আমদানিকৃত সুগার কনফেকশনারি ও হোয়াইট চকলেটের ওপর ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। একইভাবে কোকোযুক্ত চকলেট, ফিনিশড চকলেট, মিষ্টি বিস্কুট, ওয়াফার, টোস্টেড ব্রেড, আলুর চিপসসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস পণ্যের ওপরও ৪৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
শিশুখাদ্য, পাস্তা, সিরিয়ালজাত খাদ্য, ফলের জ্যাম, মার্মালেড, ফলের পিউরি, কফি, সস, আইসক্রিম ও বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুত উপকরণের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলের রস ও সবজির রসের ক্ষেত্রে শুল্কহার রাখা হয়েছে ৩০ শতাংশ।
কোমল পানীয় খাতেও উল্লেখযোগ্য কর বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। চিনি বা অন্যান্য মিষ্টি উপাদানযুক্ত মিনারেল ওয়াটার, কার্বোনেটেড পানীয়, নন-অ্যালকোহলিক বেভারেজ এবং অনুরূপ পানীয়ের ওপর ১০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আমদানিকৃত কোমল পানীয়ের দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মদ্যপ পানীয়ের ক্ষেত্রে করের বোঝা আরও ভারী করা হয়েছে। বিয়ার, ওয়াইন, ভারমুথ, সাইডার, পেরি, স্পিরিটস এবং অন্যান্য অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের ওপর ২৫০ থেকে ৩৫০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ অ্যালকোহলজাত পণ্যের ওপর শুল্কহার ৩৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। অপরিশোধিত তামাকের ওপর ১০০ শতাংশ, সিগার ও সিগারেটের ওপর ৩৫০ শতাংশ এবং বিড়ি ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের ওপর ১৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচ, নিকোটিন গ্রানিউল এবং আধুনিক নিকোটিনভিত্তিক পণ্যের ওপরও সর্বোচ্চ ৩৫০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া মার্বেল, গ্রানাইট, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন পাথর, কংকর ও ভাঙা পাথরের ওপর ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে পোষা প্রাণীর খাদ্য, বিভিন্ন ধরনের লবণ এবং কিছু খাদ্য উপাদানের ওপর তুলনামূলকভাবে কম হারে ১০ থেকে ২০ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত শুল্ক কাঠামো একদিকে রাজস্ব আদায়ে সহায়ক হবে, অন্যদিকে বিলাসী ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আমদানিনির্ভর কিছু ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে প্রতিফলিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এসএইচ







































