ফাইল ছবি
ঢাকা: বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এই রাজস্বের মধ্যে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আদায় করতে হবে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আগামী নতুন অর্থবছরে সরকারকে অতিরিক্ত ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে, যা কর প্রশাসনের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম এই বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে নতুন আগামী এক বছরের আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরবেন তিনি।
জানা গেছে, মোট রাজস্বের মধ্যে শুল্ক-কর বা কর রাজস্ব খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর-বহির্ভূত কর ২৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, কর-বহির্ভূত (নন-ট্যাক্স) উৎস থেকে আসবে বাকি ৬৬ হাজার কোটি টাকা।
এনবিআরের আওতায় এবার সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট খাতে। এ খাত থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে আয়কর, মুনাফা ও মূলধনী মুনাফার ওপর কর থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এছাড়া, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক থেকে ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং রপ্তানি শুল্ক থেকে ৯৯ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে আগামী অর্থবছরে অতিরিক্ত ৭১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য অর্জনে কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, করজাল সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এদিকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক- উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের ভারসাম্যপূর্ণ পরিকল্পনা করেছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে আবার সিংহভাগ অর্থাৎ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকাই নেওয়া হবে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পিএস







































