• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

কালো টাকা বৈধতা না থাকায় টিআইবির সতর্ক সাধুবাদ


নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
কালো টাকা বৈধতা না থাকায় টিআইবির সতর্ক সাধুবাদ

ফাইল ছবি

প্রস্তাবিত বাজেটে আপাতত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না রাখায় সরকারকে সতর্ক সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাজেট ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না রাখা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের একটি ইতিবাচক বার্তা। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিভিন্ন অজুহাতে পরে এ সুযোগ পুনরায় ফিরে আসে। তাই এ ধরনের বিধান যাতে আর না থাকে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এই সুযোগ অব্যাহত থাকায় সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং কর ফাঁকির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থার অবসান জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নতুন পে-স্কেল প্রসঙ্গে টিআইবি বলেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক হলেও এর সুফল পেতে হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকরের শর্ত হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শুধু বেতন বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না, বরং এর সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি প্রস্তাব করেন, সরকারি চাকরিজীবীরা নিজেদের ও পরিবারের সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ ও প্রকাশ করলে তবেই নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

বাজেটে কিছু নিত্যপণ্য ও সেবায় শুল্ক ও করছাড়ের প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি। একই সঙ্গে কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি আরও বলেছে, রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থায় করফাঁকি ও অনিয়ম রোধে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি যথেষ্ট নয়। বরং কর প্রশাসনের ভেতরে বিদ্যমান দুর্নীতি ও যোগসাজশমূলক অনিয়ম বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

টিআইবির মতে, রাজস্ব প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করা ছাড়া ঋণনির্ভর বাজেট থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। বাজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিতের বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় হতাশাও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

সব মিলিয়ে টিআইবি বলেছে, বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতি দমনে সরকারের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর।

এসএইচ 

Link copied!