• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

মন্ত্রীর অতিথি ও উপদেষ্টার কক্ষ দিতে সচিবালয় ছাড়ছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অডিট-আইন অনুবিভাগ


নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
মন্ত্রীর অতিথি ও উপদেষ্টার কক্ষ দিতে সচিবালয় ছাড়ছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অডিট-আইন অনুবিভাগ

কৃষিমন্ত্রীর অতিথি ও উপদেষ্টার কক্ষ দিতে বিএডিসিতে সরানো হচ্ছে অডিট-আইন অনুবিভাগ

সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রীর আগত অতিথিদের বসার কক্ষ ও উপদেষ্টার দপ্তর তৈরি করতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘নিরীক্ষা ও আইন অনুবিভাগ’ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ভবনে এ দুটি অনুবিভাগকে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

এর ফলে অতিরিক্ত সচিব (নিরীক্ষা), যুগ্ম সচিব (নিরীক্ষা), যুগ্ম সচিব (আইন) এবং নিরীক্ষা-১ ও ২ অনুবিভাগসহ দুই বিভাগের প্রায় ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সচিবালয় ছাড়তে হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নিরীক্ষা ও আইন অনুবিভাগ দুটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনগত কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এগুলোকে মূল মন্ত্রণালয় ভবনের বাইরে নিয়ে গেলে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে গতিহীনতা ও সমন্বয়হীনতার ঝুঁকি তৈরি হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিরীক্ষা অনুবিভাগের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের অধীন ১৭টি দপ্তর ও সংস্থার অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করা হয়। এছাড়া কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) কার্যালয় ও অর্থ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়সহ সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মূল কাজটি করে এই বিভাগ।

অন্যদিকে, আইন অনুবিভাগ থেকে মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থাগুলোর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রিট, দেওয়ানি ও ভূমি-সংক্রান্ত মামলার তদারকি করা হয়। সরকারের পক্ষে আইনগত মতামত দেওয়া, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মতো জরুরি কাজগুলো এই বিভাগই সামলায়।

কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এমন দুটি জরুরি বিভাগকে মূল ভবনের বাইরে পাঠানো হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ব্যাহত হবে। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ে জরুরি ফাইল নিষ্পত্তি, অডিট আপত্তির দ্রুত সমাধান এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিলম্ব ঘটতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত সরকারের আর্থিক ও আইনগত স্বার্থই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথম আলোকে বলেন, শুধুমাত্র মেহমানদের বসার ঘর কিংবা নতুন দপ্তরের জন্য এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগকে সচিবালয় থেকে বের করে দেওয়া যৌক্তিক নয়। এর বদলে মন্ত্রণালয়েই কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা যেত।

এসআই/ এম

Link copied!