• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

পে স্কেল চূড়ান্ত করবে মন্ত্রিসভা, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে হতে পারে গেজেট


নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৫, ২০২৬, ১১:২২ পিএম
পে স্কেল চূড়ান্ত করবে মন্ত্রিসভা, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে হতে পারে গেজেট

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে মন্ত্রিসভা। এরপর  আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারি হতে পারে। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেভাবেই হোক না কেন গত ১ জুলাই থেকেই তা কার্যকর হবে। বুধবার জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভায় এবিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নতুন পে স্কেলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এখন আরও দুই থেকে তিন দিন সচিব কমিটি কারিগরি কিছু দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করবে। এরপর সচিব কমিটির সুপারিশ চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বা আগষ্টের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠবে। মন্ত্রিসভায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য তা যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। এরপর প্রধানমন্ত্রী সারসংক্ষেপ অনুমোদন করলে গেজেট জারি হবে।

মন্ত্রিসভা ঠিক করবে বাস্তবায়নের ধাপ

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন, আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে বাস্তবায়ন কমিটি তিন ধাপে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল। এরপর সুপারিশ ছিল দুই ধাপে বাস্তবায়নের। সর্বশেষ গতকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। কারণ, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়। সে অনুযায়ী সরকার এই অর্থ কিভাবে যোগান দেবে সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন সচিব কমিটির সদস্যরা।  

বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের প্রায় ১১ বছর ধরে বেতন বাড়েনি। তাই নতুন পে স্কেলে যেন কারো বঞ্চনা বা ক্ষোভ না থাকে সেজন্য ভালোভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এজন্য আরও দুই থেকে তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগষ্টের শুরুতে গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। তিনি বলেন, বাড়তি বেতন–ভাতা দেওয়ার সঙ্গে অনেক অর্থের সংশ্লেষ রয়েছে। এরসঙ্গে সরকারের সক্ষমতার বিষয় আছে। তাই নতুন পে স্কেল সরকার কয়ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে সেবিষয় সচিব কমিটি কোন মতামত দেবে না। এবিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। 

জানা যায়, নতুন বেতন কাঠামোয় শুধু মূল বেতন নয়; বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও রয়েছে। এসব সুবিধার বিষয়ে একাধিক এসআরও (বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) জারি করতে হবে। সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা। বিচার বিভাগ বা আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য পে-স্কেল ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বিষয়েও চূড়ান্ত সুপারিশ দেবে এই কমিটি। এজন্য প্রত্যেকের সুবিধা নিয়ে গতকাল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। 

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার কমিটির বৈঠক শেষে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এসআরও এবং বিধিবিধানের খসড়া তৈরি করতে বলা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিগত পে স্কেলের চিত্র তুলে ধরতে নির্দেশনা দিয়েছে। অর্থবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কমিটির নির্দেশনার আলোকে কাজ করছে। 

সর্বশেষ পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়েছে দুই ধাপে

সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালের পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রথম বছরে বেতন এবং পরের বছর ভাতা দেওয়া হয়েছিল। সার্বিক বিবেচনায় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নই বাস্তবসম্মত। এতে সরকার ও সরকারি চাকরিজীবী উভয়ের জন্যই সুবিধা হবে। তিনি বলেন, সচিব কমিটি দুই ধরনের প্রস্তাবই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে পারে। এরপর মন্ত্রিসভা যেটা ভালো মনে করবে সেটা সিদ্ধান্ত নেবে।
 
২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান এর নেতৃত্বে 'জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫' গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এছাড়া বৈশাখি ভাতার হার বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ এবং যাতায়াত ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ব্যাপক সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটির মূল দায়িত্ব হলো– জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা। কমিটি যথাসময়ে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পে স্কেল চূড়ান্ত করবেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে খুব বেশি নয়।

তবে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাজেটের ‘পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের সম্পদের ব্যবহার’ অংশে ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে এটি ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। এই অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীর জন্য রাখা হয়েছে।

এসআই/এম

Link copied!