ফাইল ছবি
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী গত ১ জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন অর্থবছর শুরু হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি চূড়ান্ত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন। আগস্ট নাকি অক্টোবরে আসবে এই নির্দেশনা—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ফলে দেশের প্রায় ২১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মনে ক্ষোভ আর উৎকণ্ঠা ক্রমেই দানা বাঁধছে।
নেপথ্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায় বড় ধরনের এক হিসাব-নিকাশের জটিলতা। প্রথমে তিন ধাপে এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হলেও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের গ্যাঁড়াকলে পড়ে কর্মচারীদের বেতন বাড়ার বদলে উল্টো কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তীব্র আপত্তির মুখে দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত আইবাস প্লাস সফটওয়্যার ও ইএফটি ডিজিটাল কাঠামোর প্রযুক্তিগত জটিলতায় তাও আটকে যায়। ১৫ জুলাইয়ের সচিব কমিটির বৈঠকেও মেলেনি কোনো চূড়ান্ত সমাধান। ২০টি গ্রেডের পুনর্বিন্যাস এবং সর্বনিম্ন ৪৮ হাজার ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বেতনের ফাইলটি তাই এখনো ঝুলন্ত।
চলতি বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে থোক বরাদ্দ রাখা হলেও আইএমএফের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর এবং দেশের বিশাল বাজেট ঘাটতি সরকারকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, ১ জুলাই থেকেই এটি কার্যকর ধরা হবে।
সব প্রস্তুতি আর অর্থ বরাদ্দ থাকার পরও আমলাতান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত গোলকধাঁধায় আটকে আছে লাখো চাকুরিজীবীর স্বপ্ন। এখন দেখার বিষয়, সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে কবে নাগাদ জারি হয় কাঙ্ক্ষিত সেই প্রজ্ঞাপন, নাকি অনিশ্চয়তার এই প্রহর আরও দীর্ঘ হয়।
এসএইচ







































