• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

৭০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনবে সরকার


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
৭০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনবে সরকার

কৃষি খাতের চাহিদা পূরণে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) ও সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৭০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় হবে ৩৬৪ কোটি ৫৪ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৫ টাকা। দুটি পৃথক ক্রয় প্রস্তাবে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে প্রস্তাব দুটি অনুমোদিত হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সার কেনার উদ্যোগ নেয়। এ দুই ক্রয়ের অর্থ কৃষি ভর্তুকি বাজেট থেকে জোগান দেওয়া হবে।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, কাফকো থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কিনতে ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৩০ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৫ টাকা। অন্যদিকে, সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে খরচ হবে ২১৩ কোটি ২৪ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ মেট্রিক টন। এ চাহিদা পূরণে কাফকোর কাছ থেকে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এ জন্য বিসিআইসির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সংশোধিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রতি লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে সার কেনার কথা রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চতুর্থ লটের সার সংগ্রহে কাফকোর কাছে মূল্য প্রস্তাব চাওয়া হয়। প্রস্তাব পাওয়ার পর চুক্তিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে মূল্য পর্যালোচনা করে প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৪০৮ দশমিক ৩৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়।

এ হিসাবে ৩০ হাজার টন সার কিনতে ব্যয় হবে এক কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৫১ কোটি ৩০ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৫ টাকা।

সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে সরকার। এটি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির অষ্টম লটের চালান।

চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য নিরূপণ পদ্ধতি অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম ৪৩১ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ৪০ হাজার টন সার আমদানিতে ব্যয় হবে এক কোটি ৭২ লাখ ৬৬ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২১৩ কোটি ২৪ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এ চালানে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ সার আমদানির সুযোগও রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৭ সাল থেকে সৌদি আরবের সাবিকের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় ইউরিয়া সার আমদানি করছে বাংলাদেশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তিন লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি হয়েছে।

এদিকে, একই দিনে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোকিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড আধুনিকায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত প্রস্তাবটি পর্যালোচনা শেষে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়।

এম

Link copied!