• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

২ কোটি ৩৮ লাখের বেশি ভোট পেয়েছে জামায়াত


নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
২ কোটি ৩৮ লাখের বেশি ভোট পেয়েছে জামায়াত

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা সারা দেশে ২ কোটি ৩৮ লাখের বেশি ভোট পেয়েছেন, যা মোট প্রদত্ত ভোটের বড় একটি অংশ। নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের অবস্থানে যাচ্ছে দলটি।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৩ কোটি ৭৪ লাখের বেশি ভোট পেয়ে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট অর্জন করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থীরা ২ কোটি ৩৮ লাখের বেশি ভোট পাওয়ায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৫, যা মোট ভোটের ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জামায়াতের ভোটসংখ্যা দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা ও সমর্থনভিত্তির বিস্তৃতিকে নতুনভাবে সামনে এনেছে। অতীতে জোট রাজনীতির অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও এবারের ভোটে দলটির স্বতন্ত্র শক্তি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

এদিকে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ ভোট, যা মোট ভোটের ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ২০ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৬ ভোট এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৪ ভোট।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া ২৭৪ জন প্রার্থী সম্মিলিতভাবে পেয়েছেন ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩৪ ভোট, যা মোট ভোটের ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তবে আগের কয়েকটি নির্বাচনে বিরোধী দলের আসন দখল করে রাখা জাতীয় পার্টি এবার বড় ধাক্কা খেয়েছে। জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন দলটি ১৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও পেয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮২ ভোট, যা মোট ভোটের ০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

ছোট দলগুলোর মধ্যেও ভোটের ব্যবধান স্পষ্ট। গণ অধিকার পরিষদ পেয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ভোট এবং এবি পার্টি পেয়েছে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ভোট। ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ভোটের মধ্যে রয়েছে আরও ১২টি দল। নতুন নিবন্ধন পাওয়া জনতার দল পেয়েছে ৩৭ হাজার ৪০১ ভোট এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) পেয়েছে ১৩ হাজার ২৩৫ ভোট।

কিছু পরিচিত রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ভোটও তুলনামূলকভাবে কম এসেছে। নাগরিক ঐক্য পেয়েছে ৬ হাজার ৮৯৯ ভোট, আমজনতার দল পেয়েছে ৬ হাজার ২০৯ ভোট এবং গণফোরাম পেয়েছে ৫ হাজার ৬৬ ভোট।

এছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচটি দল সারা দেশে এক হাজার ভোটও সংগ্রহ করতে পারেনি। এসব ফলাফল থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, দেশের রাজনীতিতে বড় দলগুলোর প্রভাব আরও দৃঢ় হয়েছে এবং ভোটাররা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তির দিকেই ঝুঁকেছেন। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়ায় আগামী সংসদে সরকার–বিরোধী রাজনীতির একটি নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!