ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হতেই রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন যেন পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। ঘরে ফেরা মানুষের ঢল আর ট্রেনের বিলম্ব—দুই মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলগামী কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যস্ত হওয়ায় সকাল থেকেই স্টেশনে তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।
সোমবার সকালে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পার্কিং এলাকা থেকেই শুরু হয়েছে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। নিরাপত্তা ও টিকিট যাচাইয়ের জন্য যাত্রীদের একাধিক ধাপ পার হতে হচ্ছে। কিন্তু প্ল্যাটফর্মে ঢুকতেই দেখা যায় ভিন্ন চিত্র—হাজারো মানুষ উদ্বিগ্ন চোখে তাকিয়ে আছেন ডিজিটাল শিডিউল বোর্ডের দিকে, কখন ট্রেন আসবে সেই অপেক্ষায়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দিনের শুরু থেকেই বেশ কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি। সকাল ৬টার ধূমকেতু এক্সপ্রেস প্রায় আধা ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। নীলসাগর এক্সপ্রেসও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে স্টেশন ত্যাগ করে। একইভাবে রংপুর এক্সপ্রেস, তিতাস কমিউটার এবং একতা এক্সপ্রেসের যাত্রার সময়েও বড় ধরনের বিলম্ব দেখা যায়।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। রংপুরগামী এক যাত্রী জানান, দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে বসে থেকেও ট্রেনের কোনো নিশ্চিত খবর পাচ্ছেন না তারা। এতে পরিবার নিয়ে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, বেশিরভাগ ট্রেন ঠিক সময়েই চলাচল করছে। তবে কিছু ট্রেন ‘অপারেশনাল ডিলে’র কারণে পিছিয়ে পড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় রেললাইনের ওপর খড় শুকানোর কারণে ট্রেনকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে, যা সময়সূচিতে প্রভাব ফেলছে।
স্টেশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আজ কমলাপুর থেকে মোট ৬৭টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং বাকিগুলো মেইল ও কমিউটার সার্ভিস।
এম







































