ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তার স্থায়ী কোনো সুফল মিলছে না। অভিযানের পর কিছুক্ষণের জন্য স্বস্তি ফিরলেও বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই পুরোনো চিত্র ফিরে আসছে। ফুটপাত পেরিয়ে দোকানপাট ছড়িয়ে পড়ছে মূল সড়কে, যার ফলে নিত্যদিন চরম জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের।
শুক্রবার সরেজমিন মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করীম মসজিদ, তিন রাস্তার মোড়, বসিলা, টাউন হল ও রিং রোড এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের সময় দোকানিরা মালামাল গুটিয়ে নিলেও অভিযান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা আবার আগের জায়গায় ফিরে আসেন। ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কের তিন লেন পর্যন্ত দখল করে ফলমূল, সবজি, পোশাক ও জুতার পসরা সাজানো হয়। ফলে বাধ্য হয়ে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে হাঁটতে হয়।
এই পুনরাবৃত্তির পেছনে বড় একটি সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির রকেট চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, দোকান বসানোর জন্য অগ্রিম ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন লাইন খরচ বা চাঁদাবাবদ ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।
আল্লাহ করীম মসজিদ থেকে শুরু করে রিং রোড ও টাউন হল এলাকায় প্রতিদিন এভাবেই হাজার হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। এলাকার সামাজিক সংগঠনগুলোর মতে, এসব অবৈধ দোকান থেকে সংগৃহীত অর্থ কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ চক্রের আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব মনে করেন, শুধু লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন এবং কঠোর প্রশাসনিক তদারকি।
একই সঙ্গে হকারদের জীবিকা ও নগরবাসীর চলাচলের অধিকার-দুটি বিষয় বিবেচনা করে পরিকল্পিত বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে মোহাম্মদপুরবাসীর এই দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটবে না।
এসএইচ







































