• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

সাহাবিদের জীবনে মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধার ৫ দৃষ্টান্ত


ধর্মচিন্তা ডেস্ক অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
সাহাবিদের জীবনে মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধার ৫ দৃষ্টান্ত

ইসলাম মা-বাবার প্রতি সর্বোত্তম আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছে। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াত ও অসংখ্য হাদিসে মা-বাবার আনুগত্য ও তাদের প্রতি সদাচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন—তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করতে এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে উফ বোলো না এবং তাদেরকে ধমক দিয়ো না; তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বোলো। মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত কোরো এবং বোলো, হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত: ২৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘সে অপমানিত হোক, সে অপমানিত হোক, সে অপমানিত হোক।

জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, কে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার মা-বাবার একজনকে অথবা উভয়কে বার্ধক্যে পেল, অথচ তাদের সেবা করে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৫১)

কোরআন ও হাদিসের এই শিক্ষা সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সবচেয়ে উত্তমরূপে জীবনে ধারণ করেছিলেন।

সাহাবিদের অন্তরে মা-বাবার সম্মান

সাহাবায়ে কেরামদের (রা.) অন্তরে মা-বাবার প্রতি অপরিমেয় সম্মান ও ভালোবাসা ছিল। যার অসংখ্য দৃষ্টান্ত হাদিস ও সিরাতের কিতাবে রয়েছে।

তার মধ্য থেকে কয়েকটি তুলে ধরা হলো—
১. মায়ের সেবায় পাপমুক্তি : আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এলো এবং বলল, ‘আমি একজন নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সে আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। আমার পরে অন্য একজন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমি তাকে বিয়ে করতে চাইতাম। তাই বিষয়টি আমার আত্মমর্যাদায় আঘাত করল এবং সেই পুরুষকে হত্যা করলাম।

আমার জন্য কি তাওবার অবকাশ আছে?’ ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, ‘তোমার মা কি জীবিত আছেন?’ সে বলল, না। ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, ‘আল্লাহর কাছে তাওবা করো এবং যথাসম্ভব তাঁর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করো।’

আতা ইবনে ইয়াসার (রহ.) বলেন, ‘আমি ইবনে আব্বাস (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, এই ব্যক্তির মা আছে কি না?’ কেন জিজ্ঞাসা করলেন? তিনি উত্তর দিলেন, ‘মায়ের আনুগত্যের চেয়ে উত্তম কোনো নেক আমলের কথা আমার জানা নেই।’ (আত-তাবসিরা ফিল ওয়াজি : ১/১৮৭)

২. যে ঋণ শোধ হবে না : আবু বুরদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি ও আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) তাওয়াফ করছিলেন। তখন এক ব্যক্তিও তাঁর মাকে পিঠের ওপর নিয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছিল। আর বলছিল, ‘নিশ্চয়ই আমি তার অনুগত উট, তার বাহনগুলো ভীতসন্ত্রস্ত হলেও আমি ভীত হই না।’ লোকটি ইবনে উমর (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করল, ‘হে ইবনে উমর! আপনি কি মনে করেন, আমি কি আমার মায়ের প্রতিদান দিতে পেরেছি?’ তিনি বললেন, ‘না, তাঁর একটি দীর্ঘশ্বাসেরও নয়।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ১১)

৩. মা! তোমার প্রতি সালাম : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মারওয়ান তাঁকে (মদিনার প্রশাসক পদে) নিজের স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন এবং তিনি তখন জুল-হুলায়ফা এলাকায় অবস্থান করতেন। তিনি একটি ঘরে বাস করতেন এবং তাঁর মা আর একটি ঘরে বাস করতেন। যখন তিনি ঘর থেকে বের হতেন তখন তাঁর মায়ের দরজায় দাঁড়িয়ে বলতেন, ‘মা! তোমার প্রতি শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।’

তাঁর মা বলতেন, ‘হে পুত্র! তোমার ওপরও শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।’ তিনি আবার বলতেন, ‘আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, যেভাবে আপনি আমার শৈশবকালে আমাকে লালন-পালন করেছেন।’ তাঁর মা বলতেন, ‘আল্লাহ তোমার প্রতিও দয়া করুন যেরূপ আমার বার্ধক্যে তুমি আমার প্রতি সদ্ব্যবহার করছ।’ অতঃপর তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখনো অনুরূপ বলতেন। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ১২)

৪. মা-বাবাকে কষ্ট দেওয়া কবিরা গুনাহ : তাইসালা (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-কে বলতে শুনেছেন, পিতা-মাতাকে কাঁদানো এবং তাঁদের অবাধ্যাচরণ কবিরা গুনাহগুলোর অন্তর্ভুক্ত।(আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৩১)

৫. বাবার পেছনে পেছনে চলো : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি দুই ব্যক্তিকে দেখে তাদের একজনকে জিজ্ঞাসা করেন, ইনি তোমার কী হন? সে বলল, তিনি আমার পিতা। তিনি বলেন, তাকে নাম ধরে ডেকো না, তার আগে আগে চলো না এবং তার আগে বসো না। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৪৪)

আল্লাহ সবাইকে মা-বাবার আনুগত্য ও সেবা করার তাওফিক দিন। আমিন।

এম

Link copied!