বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। স্কোরলাইন ০-০ হলেও খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের দখলে।
বলের দখল, হাই প্রেসিং আর একের পর এক আক্রমণে লিওনেল মেসিদের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছিল লা রোজারা। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা পুরো সময় জুড়ে অপেক্ষা করেছে পাল্টা আক্রমণের সুযোগের।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন নিজেদের স্বভাবসুলভ ছোট ছোট পাসে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। প্রথম মিনিটেই আর্জেন্টিনা হাই প্রেসে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করলেও দ্রুতই ছন্দ ফিরে পায় স্পেন।
পঞ্চম মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ আসে স্পেনের। দারুণ ওয়ান-টু পাসে বক্সে ঢুকে পড়েন লামিনে ইয়ামাল।
তবে তার তীক্ষ্ণ কোণের শট দারুণভাবে রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
আর্জেন্টিনার প্রথম ভালো সুযোগ আসে ষষ্ঠ মিনিটে। ডিফেন্স চিরে লিওনেল মেসির উদ্দেশে বাড়ানো বল দ্রুত বেরিয়ে এসে ক্লিয়ার করেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।
এরপর দীর্ঘ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে আর্জেন্টিনাকে রক্ষণ সামলাতে বাধ্য করে স্পেন। ১২তম মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের চেষ্টায় কর্নার আদায় করে তারা। সেই কর্নার থেকে দানি ওলমো সুযোগ পেলেও শট নিতে পারেননি।
১৬তম মিনিটে মাঝমাঠে ফাউলের শিকার হন মেসি। ফ্রি-কিক থেকে আর্জেন্টিনা বল বক্সে তুললেও স্পেনের রক্ষণ তা সহজেই সামাল দেয়।
১৭ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে ইয়ামালের বাঁকানো ক্রস বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও মার্তিনেস বল মুঠোয় নেন। দুই মিনিট পর আর্জেন্টিনার শক্ত ট্যাকলের শিকার হন ইয়ামাল। ২৩তম মিনিটে কুকুরেয়ার ক্রস ব্লক হয়ে কর্নার পায় স্পেন। কর্নার থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি তারা।
২৯তম মিনিটে ইয়ামালকে ফাউল করে আর্জেন্টিনা। ৩১ মিনিটে তার নিখুঁত পাস লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় সুযোগ নষ্ট করেন দানি ওলমো। ৩২তম মিনিটে আলেক্স বায়েনার ক্রস আর্জেন্টিনার ঠাসা রক্ষণ হেডে ফিরিয়ে দেয়। মিনিটখানেক পর বাম দিক থেকে ফ্রি-কিক পেয়েও কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
৩৪তম মিনিটে মেসিকে ছোট পাসে ফ্রি-কিক নিলেও দ্রুতই বল কেড়ে নেয় স্পেন। এরপর একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। দানি ওলমো মাঝমাঠ থেকে ড্রিবল করে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু আর্জেন্টিনার রক্ষণ ছিল দেয়ালের মতো শক্ত।
৩৯তম মিনিটে স্পেনের সবচেয়ে পরিষ্কার সুযোগ আসে। বক্সের সামনে বল পেয়ে প্রথমবারের মতো শট নেন ওইয়ারসাবাল, তবে তার দুর্বল প্রচেষ্টা সহজেই ধরে ফেলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
৪২তম মিনিটে বাম দিক থেকে ভেতরে ঢুকে নিচু শটে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান মার্ক কুকুরেয়া। কিন্তু বল পোস্টের পাশ ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। একই সময়ে পেদ্রো পোরোর একটি ক্রসও বাইরে চলে যাওয়ায় সুযোগ হাতছাড়া হয় স্পেনের।
৪৪তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। তার জায়গায় নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি। যোগ করা সময়ে মেসির দিকে লম্বা বল বাড়ানো হলেও স্পেনের গোলরক্ষক দ্রুত বেরিয়ে এসে বিপদমুক্ত করেন। পরবর্তীতে আর কোনো গোল না হলে দ্বিতীয়ার্ধে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস রেখেই বিরতিতে যায় দুই দল।
এম







































