জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ন ও শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে ঢাকা। সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, দূষণের মাত্রা বেড়ে আবারও শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে রাজধানীটি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউ এয়ার–এর রিয়েল-টাইম তথ্য অনুযায়ী, ২২৩ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহরের অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এ মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত।
একই সময়ে ২৪৩ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (স্কোর ২২১)। চতুর্থ অবস্থানে আছে বাহরাইনের মানামা (স্কোর ২০১)। সমান স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লী
একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) শূন্য থেকে ৫০ হলে বায়ুর মান ভালো ধরা হয়। ৫১-১০০ মাঝারি, ১০১-১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১-২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১-৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশে বায়ুমান নির্ধারণে মূলত পাঁচ ধরনের দূষক বিবেচনায় নেওয়া হয়—পিএম১০, পিএম২.৫, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন (ও₃)।
২০১৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের বড় তিন উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলা। শীতকালে বৃষ্টিপাত কম ও বাতাসের গতিবেগ কম থাকায় দূষক কণাগুলো বাতাসে স্থির থাকে, ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যারর তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণ স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যুর পেছনে বায়ুদূষণকে দায়ী করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দূষণ কমাতে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন, নির্মাণসাইটে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, ইটভাটা ও যানবাহনের নির্গমন কমানো এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
এম







































