নোয়াখালী: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী–৪ (সদর–সুবর্ণচর) সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর গ্রাম-গঞ্জ, হাটবাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রার্থী ও সমর্থকদের সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও মিছিল চোখে পড়ছে। তবে এই সরব প্রচারণার আড়ালে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে রয়েছে চাপা শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা।
রাজনৈতিক সহাবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তব ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। সুবর্ণচরের কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো প্রকাশ্য প্রচারণা তুলনামূলক কম। অনেক ভোটারই প্রকাশ্যে কাকে ভোট দেবেন তা বলতে অনাগ্রহী। স্থানীয়দের মতে, ভয় ও নিরাপত্তাজনিত শঙ্কাই এর অন্যতম কারণ। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা স্পষ্ট—যোগ্য, সৎ ও নতুন নেতৃত্ব। গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া নীরব ভোটারদের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
[264821]
নোয়াখালী সদর ও সুবর্ণচর উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী–৪ আসনে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের মধ্যে। একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট বিভাজনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহজান দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তি ও শক্তিশালী কর্মীসমর্থনের ওপর ভর করে ধারাবাহিক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সরাসরি সব কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না। তার পক্ষে ছেলে ও মেয়েকে মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে।
সুবর্ণচর উপজেলা চরজব্বর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ বাচ্চু বলেন, “আমরা জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছি। মানুষ আমাদের আশ্বস্ত করছে। আমরা আশাবাদী, প্রতিপক্ষের চেয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ইসহাক খন্দকার (বি.এসসি) ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থনের ওপর ভর করে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। জামায়াত নেতারা মনে করছেন, ইসলামপন্থীদের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি ও চরজব্বর ইউনিয়ন আমির ওমর ফারুক ভুইঁয়া বলেন, “ইসহাক খন্দকার একজন শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ—তার সঙ্গে কারো তুলনা হয় না। আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের কথা শুনছি। মানুষ পরিবর্তন চায়। ইনশাআল্লাহ নোয়াখালী–৪ আসনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীই জয়ী হবে।”
আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যক্তি আব্দুল্লাহ বলেন, “দুই প্রার্থীই ভালোভাবে মাঠে কাজ করছেন। তবে এবারের ভোটের আমেজ ভিন্ন। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয় এবং কালো টাকার প্রভাব না থাকে, তাহলে যোগ্য প্রার্থীই জয় পাবে।”
স্থানীয় ভোটারদের আলোচনায় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, বিমানবন্দর, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও নদীভাঙন অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে বলে জানান রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, উপকূলীয় এই আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা এবং জেলে ও কৃষকদের জীবনসংগ্রাম এখানকার মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। এসব ইস্যুই এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
এদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ কাটিয়ে বর্তমানে দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছেন। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী ইসহাক খন্দকারও ধর্মপ্রাণ ভোটারদের একটি বড় অংশের সমর্থন নিয়ে আশাবাদী।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে তারা প্রকাশ্যে অবস্থান জানাতে অনাগ্রহী হলেও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ফলে ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং নীরব ভোটারদের রায়ই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এস/এসআই