ঢাবিতে প্রথম হওয়া গাঙ্গুলীর আত্মহত্যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

  • ঝিনাইদহ প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ফাইল ছবি

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতের দিকে কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বাজারপাড়ার নিজ বাসা থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার জানায়, অনন্য দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণার কারণে আত্মহত্যা করেছেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অনন্যের শিক্ষাজীবন ছিল মেধার স্বাক্ষরে পরিপূর্ণ। পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে তিনি মেধার প্রমাণ দিয়ে বৃত্তি অর্জন করেছিলেন। তবে কলেজ জীবনে নানা কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েন। ৫ বছর পর ফের তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ঘ ইউনিটে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং মোট ১০৩.৯৫ নম্বর পেয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

তবে শিক্ষাজীবনের মধ্যেই অনন্য নানা স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে গ্যাস্ট্রিক আলসারের জটিলতায় তার বার্ষিক পরীক্ষার ফল খারাপ হয়। এসএসসি পর্যন্ত মানসিক সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। অনন্য নিজেই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তখন মেজর ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার, ওসিডি ও অ্যাংজাইটি ভোগ করছিলেন। যশোর, ঢাকা এবং ভারতের তামিলনাড়ুতে চিকিৎসার পরও সম্পূর্ণ সুস্থতা ফিরে পাননি।

মাঝে কিছুটা সুস্থ বোধ করলে ২০২১ সালে কোটচাঁদপুরের সরকারি খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন এবং জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরে অনলাইন কোচিংয়ের মাধ্যমে ঢাবি প্রস্তুতি শুরু করেন। নিয়মিত অধ্যয়ন ও নিষ্ঠার কারণে ঘ ইউনিটে প্রথম স্থান অধিকার করতে সক্ষম হন।

অনন্যের বাবা প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, মা রাধারানী ভট্টাচার্য্য স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। ছোট বোন লিথি মনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণাই অনন্যকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে প্ররোচিত করেছে।

কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।” 

এসএইচ