বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কে ধুলার দাপট, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে জনজীবন

  • মো. শাকিল শেখ, সাভার প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির রাজ্যে পরিণত হয়েছে শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়া। বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কে বেড়েছে বায়ুদূষণের মাত্রা, দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। স্বাস্থ্যবিদ ও পরিবেশবিদরা সতর্ক করছেন-দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনস্বাস্থ্য বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কে নামলেই ধুলায় নাকাল হচ্ছেন পথচারীরা। নাকে-মুখে ও চোখে ধুলা ঢুকে দমবন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হচ্ছে। দূষিত পরিবেশে অ্যাজমা, এলার্জি, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসকদের চেম্বারে রোগীর চাপও বাড়ছে।

বাইপাইল থেকে আব্দুল্লাহপুর সড়কটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলে যাতায়াতের প্রধান পথ হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো পণ্যবাহী যান, গণপরিবহন ও যাত্রী চলাচল করে। এই সড়কের ওপর দিয়েই নির্মাণ হচ্ছে ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রকল্পটি ভবিষ্যতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও বর্তমানে ধুলাবালি, যানজট ও সংকীর্ণ সড়কে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে।

সড়কের পাশে দোকান, শোরুম, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বাড়িঘর ও গাছপালা ধুলায় ঢেকে গেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ট্রাফিক পুলিশ, রিকশা ও ভ্যানচালক, গণপরিবহনের চালক এবং যাত্রীরা। পথচারী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নিয়মিত পানি ছিটানো না হওয়ায় ধুলা নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ধুলাবালির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শিক্ষার্থীরাও নানা অসুখে ভুগছে।

ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে ধুলা থেকে রেহাই ও জনসচেতনতা বাড়াতে আশুলিয়া থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হাবিব মাস্ক বিতরণ করেছেন এবং সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাস্ক ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. শাকিল মাহমুদ বলেন, বায়ুদূষণের কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে, আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এইচ এম সাদাত বলেন, অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি, উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজ—সব মিলিয়ে এমন দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজে নিয়মিত পানি না ছিটানো হলে উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

ঢাকা–১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, পরিবেশ দূষণ কমাতে সাভার ও আশুলিয়াকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ এলাকায় পরিণত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এসএইচ