বরিশালে আদালত কক্ষ ভাঙচুর ও বিচারককে হুমকির অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সম্পাদক ও পিপিসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করে জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মো. জহির উদ্দিন। একই সঙ্গে আগামী ২ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাদিকুর রহমান লিংকনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর আগে দুপুরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর আদালতের পিপি নাজিমুদ্দিন পান্না, সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট সাঈদ, হাফিজ উদ্দিন বাবলু, তারেক আল ইমরান, আবুল কালাম আজাদ ইমন ও অ্যাডভোকেট বশির উদ্দিন সবুজসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন।
এজাহারে বলা হয়েছে, একটি মামলার জামিনকে কেন্দ্র করে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে কয়েকজন আইনজীবী আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন এবং বিচারকদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন। পরে বেলা আড়াইটার দিকে আদালতের কার্যক্রম চলাকালে তারা হট্টগোল সৃষ্টি করেন। এতে আদালত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা এজলাসে থাকা বেঞ্চ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন, ডায়াসের মাইক্রোফোন ভাঙচুর করেন এবং নথিপত্র ও মামলা রেজিস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের কোর্টরুম থেকে বের করে দিয়ে বিচারককে জোরপূর্বক এজলাস ত্যাগে বাধ্য করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোখলেচুর রহমান বাচ্চু বলেন, সরকারি কাজে বাধা ও দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা মামলায় সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামিন শুনানির আবেদন করা হলে আদালত ২ মার্চ পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর সহকারী পুলিশ কমিশনার অলক কান্তি শর্মা বলেন, আদালত ভাঙচুর ও বিচারককে হুমকির ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। প্রধান আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে সভাপতিকে গ্রেপ্তারের পর দিনভর আইনজীবীরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত এলাকায় সেনাসদস্য, র্যাব-৮ ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, এজলাস কক্ষ ভাঙচুর ও বিচারককে হুমকির কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সাদিকুর রহমান লিংকনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন বাংলাদেশ হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের বিরুদ্ধে সাত বছর আগের একটি মারামারির মামলায় তিনি মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আইনজীবী সমিতির নেতারা আদালতের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। পরে দুপুরে আদালত চালু হলে কয়েকজন আইনজীবী এজলাসে প্রবেশ করে হট্টগোল করেন, যার জেরে এই মামলার সূত্রপাত।
এসএইচ